৪৩ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর বেশির ভাগ এলাকা। টানা বর্ষণে গতকাল কোথাও হাঁটু আবার কোথাও গলা পর্যন্ত পানি জমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে নগরজীবন।
জলাবদ্ধতায় বিভিন্ন এলাকার নিচতলার বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেসে’ ট্রেন ষোলশহর-জান আলী হাট সেকশনের মধ্যবর্তী স্থানে কয়েক ঘণ্টা আটকে ছিল। পতেঙ্গা এলাকায় বাইপাস ধসে পড়ে সড়ক।
এদিকে পাহাড় ধসে, দেয়াল চাপা পড়ে ও জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজারে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। অব্যাহত ভারি বর্ষণে প্রাণহানি এড়াতে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি ও বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ রাত ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বশির আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে গত চার দশক সময়ে এ ধরনের বৃষ্টিপাত দেখা যায়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের রেকর্ডে ১৯৮৩ সালে ৪ আগস্ট ৫১১ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ডের তথ্য আছে। সোমবার রাত থেকে ভারি বর্ষণের কারণে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।
তাছাড়া সমুদ্রে জোয়ার থাকায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। মৌসুমি বায়ুর কারণে সৃষ্ট বৃষ্টিপাত আজ ও বৃহস্পতিবারও স্থায়ী হতে পারে। সমুদ্র ও নদীবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ভারি বর্ষণে গত সোমবার পতেঙ্গা এলাকায় একটি বাইপাস সড়ক ধসে পড়েছে। আউটার রিং রোডের সঙ্গে সংযোগকারী উড়াল সড়ক নির্মাণকাজ চলাকালে বিকল্প হিসেবে নির্মিত সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় রিং রোডগামী যানবাহনগুলো বিপাকে পড়েছে।
এছাড়া রেললাইন পানিতে ডুবে যাওয়ায় আট শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি ষোলশহর-জান আলী হাট সেকশনের মধ্যবর্তী স্থানে বেলা পৌনে ১টা থেকে আটকে ছিল।
বিকালে ট্রেনটিকে পুশব্যাক করে ষোলশহর স্টেশনে নিয়ে আসা হলেও ট্রেনের ট্যাংকে পানি ফুরিয়ে যায়। ঢাকা থেকে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করা যাত্রীরা এতে বিপাকে পড়েন।
এদিকে পর্যটক এক্সপ্রেসসহ চারটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ ও ‘সৈকত এক্সপ্রেস’ রেলের কন্ট্রোল অর্ডার নং ২২৭ ও কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ও কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেন রেলের যাত্রা ২২৯ নং কন্টোল অর্ডারে বাতিল করা হয়েছে।
রেলপথে পানি উঠে যাওয়াসহ কানেক্টিং রেকের মাধ্যমে উভয়মুখী ট্রেনগুলো পরিচালনার কারণে দীর্ঘ বিলম্বে একসঙ্গে চারটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে হয়। তবে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেসে’র যাত্রা চট্টগ্রাম পর্যন্ত বাতিল হলেও চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় একই সময়ে ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করেছে।
এদিকে কক্সবাজারের উখিয়ায় গতকাল বিকালে দেয়াল চাপা পড়ে মো. মানিক (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সকালে মহেশখালীতে বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে পড়ে রুমাইসা খানম নামের ২১ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
দুপুরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতের বিপরীতে বড়ছড়া পাহাড়ের হাজিঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে লিমা আক্তার নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় তার স্বামী জসিম উদ্দিনও আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী।
চট্টগ্রাম নগরের রহমাননগর এলাকায় দেয়ালধসে সফিকুল ইসলাম (৩২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার রহমাননগরের বি ব্লক ৪ নম্বর সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এতে আহত হয় সফিকুলের তার দেড় বছর বয়সী মেয়ে সাইফা ও শাশুড়ি মর্জিনা বেগম (৫৫)। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিউল আজম।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মাটির ঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ও গাছ চাপা পড়ে রেণু আক্তার (৫৬) নামের একজন নিহত হয়েছেন। বিকালে উপজেলা সদরের ইছাখালী গ্রামে ভারি বৃষ্টিতে গুচ্ছগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এছাড়া রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে পাহাড় ধসে লক্ষ্মী বিলাস চাকমা (৭০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লাইল্যাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
টানা বর্ষণে সব থেকে ঝুঁকির মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পাহাড়ে বসবাসকারী লক্ষাধিক সাধারণ মানুষ। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে এরই মধ্যে প্রশাসন তৎপরতা শুরু করলেও বেশির ভাগেরই সরে যাওয়ার প্রবণতা কম।
সরজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চকবাজার, কাপাসগোলা, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, কাতালগঞ্জ, চৌমুহনী, তিন পোলের মাথা, জামালখান, রহমতগঞ্জ, শুলকবহর, অক্সিজেন, রামপুর, মুরাদপুর, আনন্দীপুরসহ নগরীর প্রায় সব নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি ওঠায় মানুষের স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য থেমে গেছে। চট্টগ্রাম শহরের প্রধান প্রধান উঁচু সড়কগুলোতেও হাঁটু পানি উঠতে দেখা গেছে। নগরীজুড়ে পানির কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে অফিস ও কর্মক্ষেত্রে যাওয়া-আসা মানুষ। যানবাহনের স্বল্পতা ও বাড়তি ভাড়ার কারণে সড়ক ধরে হেঁটে অফিসে বা বাসাবাড়িতে ফিরতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষদের।
অন্যদিকে ঘণ্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে না পেরে ঢাকায় জরুরি অবতরণ করে।
উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় লামা ও আলীকদমে অন্তত লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। চকরিয়ায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কার্যালয়টি সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে ও ভবনের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে।
খাগড়াছড়িতে ভারিবর্ষণে চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ খাল ছড়ায় পাহাড়ি ঢলে পানি বেড়েছে। গতকাল দুপুর থেকে জেলা সদর, মহালছড়ি, পানছড়ি, দীঘিনালাসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় বন্যার ঝুঁকি আছে জেলার সদর, মাটিরাঙ্গা, পানছড়ি, রামগড়সহ বিভিন্ন উপজেলায় বৃষ্টি হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোথাও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেনি। তবে জেলা সদরে নিচের বাজার, মুসলিম পাড়াসহ নিচু এলাকায় পানি বেড়েছে গতকাল থেকে। জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানান, যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি রয়েছে।
এছাড়া খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কের মহালছড়ির মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে গেছে। ফলে এ দুই জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া বান্দরবানের আলীকদম ও রুমা-বগা লেক সড়কেও পাহাড় ধস ও পানি ওঠার কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল ও নদীপথে পর্যটকদের প্রবেশ ১০ জুলাই পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে, যার ফলে থানচি ও রুমার দুর্গম এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েন। এদিকে অতিবৃষ্টিতে রেইচা এলাকায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের একটি খুঁটি হেলে পড়ায় বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। পেকুয়া উপজেলাও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় স্থানীয়রা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগ মোকাবেলায় নগরীর চারটি সার্কেলে আটটি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
বান্দরবান জেলা প্রশাসন ২২০টি ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ১৩৫টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। চকরিয়া ও পেকুয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এ জলাবদ্ধতার মধ্যেও খোলা থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম ঝুঁকি ও ভোগান্তির মুখে পড়েছে। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাশাপাশি ১৫টি উপজেলার নিচু এলাকার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে হাটহাজারী, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণের কারণে নদী ও খালের পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উপজেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ার শঙ্কা জানিয়েছে স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ভারি বর্ষণে সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট, সাতকানিয়া সদর, বাজালিয়া, এওচিয়া, চরতি, ছদাহা, সোনাকানিয়া, কাঞ্চনা, খাগরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ সড়কে পানি জমে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, এমনকি কোথাও কোথাও বাড়ির আঙিনা ও নিচতলায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে বোয়ালখালী উপজেলার প্রধান সড়কসহ উপজেলা হাসপাতালের নিচতলা পনিতে ডুবে গেছে। এছাড়া উপজেলার ধানি জমি ও নিম্নাঞ্চলে থাকা ঘরবাড়ির উঠানে হাঁটুসমান পানি আছে বলে জানান স্থানীয়রা।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণে উপজেলা ও নগরীর নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ে অবস্থানকারীদের সরে যেতে মাইকিংসহ অন্যান্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
এদিকে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের (মহানগরী) সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীতে পাহাড় নিয়ে বরাবরই সতর্ক অবস্থানে আছে পরিবেশ অধিদপ্তর। চলতি বছরেই এখন পর্যন্ত ৪৯টি অভিযান চালানো হয়েছে। পাহাড় কাটার দায়ে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ আদায়ের পাশাপাশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুরনো পাহাড় কাটা মামলাগুলোর বেশির ভাগই চার্জশিট দেয়া হয়েছে। কিছু মামলার রায়ও হয়েছে।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, চট্টগ্রামে এমন ভারি বৃষ্টিপাত নিকট অতীতে দেখা যায়নি। টানা বর্ষণের কারণে নগরীতে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। যেসব এলাকায় পানি জমেছে, সেখানকার খাল পুনঃখনন ও সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে।
বিশেষ করে হিজড়া খাল, জামালখান খাল, আজব বাহার খাল ও গুলজার খালে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কাজ করছে। কিছু কাজ এখনো বাকি থাকলেও দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন নালা পরিষ্কার করেছে। প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে নগরবাসী সুবিধা পাবে।’
প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
এফপি/সা