Dhaka, Wednesday | 8 July 2026
         
English Edition
   
Epaper | Wednesday | 8 July 2026 | English
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী নেদারল্যান্ড
বিনোদন দুনিয়ায় চমক, এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে হচ্ছে সিনেমা
ঢাকাসহ ১৯ জেলার জন্য সতর্কবার্তা, ঝড়ের শঙ্কা
১৬ জেলায় বন্যার আভাস
শিরোনাম:

৬১% খেলাপি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে

প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৪ পিএম  (ভিজিটর : ৫)
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের রাঙ্গামাটি শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন দর্পণ চাকমা। ২০২০ সাল-পরবর্তী পাঁচ বছর তিনি ওই শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের রাঙ্গামাটি শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন দর্পণ চাকমা। ২০২০ সাল-পরবর্তী পাঁচ বছর তিনি ওই শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন।

এ সময়ে গ্রাহকের নামে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি, গ্রাহকের জমা দেয়া ঋণের কিস্তি আত্মসাৎসহ বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকটির প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পলাতক হয়েছেন তিনি। বিশেষায়িত ব্যাংকটির নিজস্ব তদন্তেই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়েছে।

কেবল দর্পণ চাকমাই নন, বরং প্রবাসীদের অর্থে গড়ে ওঠা ব্যাংকটির আরো অনেক শাখা ব্যবস্থাপক ও প্রধান কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন। এতে প্রবাসীদের ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে না পারলেও ব্যাংকটির অনেক কর্মকর্তার পকেট ভারী হয়েছে। 

আর অতীতে রাজনৈতিক তদবির ও ঘুসের বিনিময়ে দেয়া ঋণ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকটির আর্থিক ক্ষত ক্রমেই গভীর হচ্ছে। গত ২ জুলাইয়ের তথ্য বলছে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের প্রায় ৬১ শতাংশ ঋণই খেলাপির খাতায় উঠেছে। ব্যাংকটির ১২২টি শাখার বেশির ভাগের খেলাপি ঋণের হার এখন ৭০ শতাংশের বেশি।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ বলছে, ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রার শুরু থেকেই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকরা নানামুখী অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়েছিলেন। সে সময় কর্মকর্তা হিসেবে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, তার বেশির ভাগ ছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। 

ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিএম কয়েস সামি কোনো নিয়মনীতি না মেনেই এসব নিয়োগ দিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে মূল প্রভাবক ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পরও এসবের প্রভাব থেকে বেরোতে পারেনি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।

ব্যাংকটির বিভিন্ন প্রডাক্ট চালুর ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। যেমন অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য চার ধরনের আমানত প্রকল্প চালু করে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। এসব প্রকল্পের নাম ‘বঙ্গবন্ধু সঞ্চয়ী স্কিম’, ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা সঞ্চয়ী স্কিম’ ও ‘বঙ্গবন্ধু ডাবল বেনিফিট সঞ্চয়ী স্কিম’। ব্যাংকের প্রডাক্টের নামকরণে এমন রাজনৈতিক মনোভাবের প্রকাশ দেশের অন্য কোনো ব্যাংকে দেখা যায়নি।

প্রতিষ্ঠালগ্নে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত ছিলেন রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী। কিন্তু ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরুর মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্য দেখে তিনি পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. তাসনিম সিদ্দিকী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি ছয় মাস প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পর্ষদে ছিলাম। পাবলিক ও প্রাইভেট ব্যাংকের কন্ট্রিবিউশনে ব্যাংকটিকে সফল করার জন্য তিনটি চমৎকার গাইডলাইন তৈরি করে দিয়েছিলাম। 

মিটিংগুলোতে দেখতাম, গাইডলাইন তৈরি করে দেয়ার পরও বারবার বলা হতো যে সেগুলো অনুমোদন হয়নি। অথচ নীতিমালা অনুমোদিত না হওয়া সত্ত্বেও কোনো রকম বাছবিচার ছাড়া সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে স্বজনপ্রীতি করে প্রচুর লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। 

তৎকালীন সময়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এমন কেউ বাকি ছিল না, যে তার লোককে এ ব্যাংকে চাকরি দেয়নি।”এ নিয়োগে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত প্রভাবশালী উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। তিনি এ ব্যাংকটিতে তার প্রচুর লোকজনকে চাকরি দিয়েছেন। যখন দেখলাম ব্যাংকটির আসলে এভাবে দাঁড়ানোর কোনো উপায় নেই, তখন ছয় মাসের মাথায় আমি পদত্যাগ করি।’

ব্যাংক পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকা ব্যক্তিদের হাতে পর্ষদের দায়িত্ব থাকায় শুরুতেই ব্যাংকটি বিকশিত হতে পারেনি জানিয়ে অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘ব্যাংকটির আইনে প্রথমে বলা ছিল, বিশেষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যাংকারদের চেয়ারম্যান বা গুরুত্বপূর্ণ পদে নেয়া যাবে।

কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে সেই নিয়ম বদলে ফেলা হলো এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব পদাধিকারবলে এর চেয়ারম্যান হতে লাগলেন। মন্ত্রণালয়ের সচিবের কি ব্যাংক চালানোর কোনো অভিজ্ঞতা আছে? ব্যাংকটির যে সম্ভাবনা ছিল তা শুরুতেই শেষ হয়ে গেল।’

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাংকটির উদ্বোধন করেছিলেন। কেবল রাজনৈতিক বিবেচনায় বিশেষায়িত এ ব্যাংকটি চালু করেছিল তৎকালীন সরকার। 

যদিও সে সময় অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলেছিলেন, বিশেষায়িত ব্যাংক না করে সরকারি অন্য ব্যাংকগুলোতে প্রবাসীদের জন্য পৃথক ডেস্ক স্থাপন করলেই বেশি সুবিধা মিলবে। 

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মূলধনের ৯৫ শতাংশের জোগান এসেছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে। বাকি ৫ শতাংশ মূলধন জোগান দিয়েছে সরকার। শুরুতে মাত্র ১০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও বর্তমানে এ মূলধন ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

বিদেশগামী প্রত্যেক কর্মীকে বাধ্যতামূলকভাবে কল্যাণ ফি দিতে হয়। এই ফি সরাসরি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিলে জমা হয়। প্রবাসীদের জমা দেয়া এ অর্থ থেকেই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মূলধন জোগান দেয়া হয়েছে। 

ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের সহায়তা করতে স্বল্প সুদে ও দ্রুততম সময়ে অভিবাসন ঋণ প্রদান, বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনর্বাসন ঋণ প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে সমন্বিতকরণ এবং ব্যয়সাশ্রয়ী পন্থায় প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশে আনয়ন ও বিতরণ। কিন্তু দেড় দশক পেরিয়ে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার সে লক্ষ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ জুলাই পর্যন্ত ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। মোট ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭২ গ্রাহকের মাঝে এ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। 

এর মধ্যে ১ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা ছিল খেলাপি। সে হিসাবে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়ায় ৬০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বিতরণকৃত ঋণ আদায় না হওয়ায় বিশেষায়িত এ ব্যাংকটি লোকসানেও পড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকটি নিট ৯৮ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে বলে জানা গেছে।

ব্যাংকটির অনেক কর্মকর্তা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের আমলে তাদের প্রভাবশালী নেতাদের তদবির ও চাপের মুখে অনেক ঋণ বিতরণ করতে হয়েছে। সেসব ঋণ এখন আর আদায় হচ্ছে না। 

আবার ঘুসের বিনিময়ে যেসব ঋণ দেয়া হয়েছিল, সেগুলোরও হদিস নেই। এসবের বাইরে ঋণ নিয়ে বিদেশ গেলেও অনেক প্রবাসী কাজ না পেয়ে ফিরে এসেছেন। কেউ কেউ যথাসময়ে বিদেশে কাজ পাননি। এসব কারণে প্রবাসীদের দেয়া ঋণ আদায় হচ্ছে না।

অবশ্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওয়াহিদা বেগম বলেন, ‘খেলাপি ঋণের মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের জন্য কিছু নীতি ছাড় ছিল। 

তফসিলি ব্যাংক হওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া নীতি ছাড়ের মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে জুলাইয়ে এসে খেলাপি ঋণ এতটা বেড়েছে। ৬১ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার তথ্যটি আগামী সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেখানো হবে। 

এ সময়ে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নীতি ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করব। গত ৩০ জুন আমাদের খেলাপি ঋণের হার ছিল ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।’

চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বিশেষায়িত ব্যাংকটির এমডি পদে যোগ দেন ওয়াহিদা বেগম। ব্যাংকটির কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অতীতে কী হয়েছে সেটি আমার জানা নেই। সরকার আমাকে এ ব্যাংকের এমডি নিয়োগ দিয়ে পাঠিয়েছে। 

দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে ব্যাংকটিকে দাঁড় করাতে কাজ করছি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমরা ১৪০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছি। প্রভিশন (সঞ্চিতি) সংরক্ষণ করতে গিয়ে ব্যাংক লোকসানে পড়েছে।’

খেলাপি ঋণের হারে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে ব্যাংকটির গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ শাখা। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে চালু হওয়া এ শাখায় বর্তমানে মোট গ্রাহক আছেন ২ হাজার ৩৯৬ জন। এ শাখার বিতরণ করা ঋণের ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশই খেলাপি। শাখাটির বিতরণকৃত ৫২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋণের ৪১ কোটি টাকাই এখন খেলাপি।

ওই শাখার ব্যবস্থাপক আরিফুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ক্ষমতায় থাকার সময়ে স্থানীয় এমপি আবুল কালাম আজাদ ফোন দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঋণ দেয়ার জন্য চাপ দিতেন। তার সুপারিশে ঋণ দিতে হয়েছে। ঋণখেলাপি বেশি হওয়ার পেছনে আমাদের ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কিছু নীতিরও দায় আছে।’

জনবল সংকটের কারণেও ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান আরিফুল হক। তিনি বলেন, ‘মাত্র দুজন লোক নিয়ে শাখাটি পরিচালনা করেছি। এখানে অনেক ক্ষেত্রে প্রবাসীর চেয়ে পরিবারের লোকজনের গাফিলতি বেশি থাকে। প্রবাসী হয়তো বিদেশ থেকে ঠিকই টাকা পাঠাচ্ছেন, কিন্তু দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা টাকা পরিশোধ করছেন না।

 মাঠে ঋণ আদায় করতে গিয়ে আমাদের প্রায়ই হেনস্তা হতে হয়। অনেক গ্রাহককে বাড়িতে পাওয়া যায় না, অনেকে ভাসমান হয়ে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করছেন, তাদের খোঁজ মেলে না। এছাড়া সম্প্রতি বিদেশ থেকে শূন্য হাতে ফেরত আসার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিগত এক মাসেই ১০ জন এমন গ্রাহক এসেছেন, যারা বিদেশে গিয়েই আবার ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছেন।’

ঘুসের বিনিময়ে ঋণ দেয়ার কথাও জানিয়েছেন শাখা ব্যবস্থাপকদের কেউ কেউ। এ বিষয়ে ব্যাংকটির দুটি শাখার ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আগের ব্যবস্থাপক ঘুসের বিনিময়ে বেশকিছু ঋণ দিয়েছেন। 

এক্ষেত্রে ২ লাখ টাকার ঋণের জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘুস নেয়া হয়েছে। এর বাইরে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ঘিরে সারা দেশে বেশকিছু দালাল সক্রিয় রয়েছে। তারা কমিশনের বিনিময়ে শাখা ব্যবস্থাপকদের কাছে গ্রাহকদের নিয়ে আসে। ঋণ দেয়ার পর প্রবাসী বা তাদের স্বজনদের খুঁজে পাওয়া যায় না।’

বিশেষায়িত হিসেবে কার্যক্রম শুরু করলেও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের তফসিলভুক্ত হয় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে লেনদেন শুরু করার লাইসেন্স নেয়া হলেও গত আট বছরে সেটি সম্ভব হয়নি। নিজস্ব কোর ব্যাংকিং সলিউশন না থাকায় ব্যাংকটির কার্যক্রম চলছে অন্য ব্যাংকের সহায়তায়। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তঃব্যাংক লেনদেন প্লাটফর্মেও যুক্ত হতে পারেনি ব্যাংকটি।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে পরিচালনাগত ব্যর্থতার বিষয়টি উঠে আসে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার প্রকাশিত শ্বেতপত্রেও। এক্ষেত্রে ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতার একটি মূল্যায়ন করার সুপারিশ করা হয়েছিল। 

শ্বেতপত্রের সুপারিশে বলা হয়, ব্যাংকটির কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকারদের এ পদে নিয়োগ দেয়া দরকার। আমলাদের সংখ্যা কমিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

শুরুতেই কোনো ব্যাংকে অনৈতিকতার চর্চা হলে সেটি শুধরে নেয়া কঠিন বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘যেকোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আমাদের পরিদর্শনে কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক তফসিলভুক্ত হওয়ায় খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ আর পাবে না। এক্ষেত্রে অন্য ব্যাংকগুলোর মতোই তাকে খেলাপি ঋণের নীতি মেনে চলতে হবে।’

এফপি/সা

সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝