পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর বলেন, চট্টগ্রাম-দোহাজারী অংশের বিভিন্ন রেললাইন কোথাও কোথাও লাইন ১-২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। দুর্যোগকালীন এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেলপথ আরো প্রায় ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রেললাইনে পানি উঠে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ষোলশহর থেকে দোহাজারী পর্যন্ত শতবছরের পুরনো রেললাইন ৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু করা হবে।
সকালে রেলের বিশেষ গ্যাংকারে চড়ে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ।
ষোলশহর-জান আলী হাট সেকশনের মধ্যবর্তী শমসের পাড়া এলাকায় সকাল ১০টায় ষোলশহর-দোহাজারী রেললাইনে ডুবে যাওয়া অংশ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
একই গ্যাংকারে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ফিরে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘চট্টগ্রামে চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় জলাবদ্ধ পানি রেললাইনের উপর ১৫-২১ ইঞ্চি পর্যন্ত উঠে যায়।
৫-৬ ইঞ্চি উঁচু পানি থাকলেও ট্রেন চলাচল করা সম্ভব। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত পানির কারণে ট্রেন ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন সার্ভিস সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। তবে কক্সবাজারগামী ঢাকার ট্রেনগুলো একই টিকিটে চট্টগ্রাম ভ্রমণ করতে পারবেন। টিকিটের অবশিষ্টাংশ টাকা রেলওয়ে যথা নিয়মে ফেরত দিবে।’
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুবক্তগীন, পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সফিকুর রহমান, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তফিজুর রহমান মিঞা, কালুরঘাট সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ সহ রেলওয়ের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম-দোহাজারী অংশের বিভিন্ন রেললাইন কোথাও কোথাও লাইন ১-২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। দুর্যোগকালীন এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেলপথ আরো প্রায় ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এরই মধ্যে এ বিষয়ে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে ৩ ফুট পর্যন্ত পানি বাড়লেও রেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে একটি কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে, যা বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লার দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমবে এবং যাতায়াত সময় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট সাশ্রয় হবে। নতুন প্রকল্পগুলোয় ট্র্যাক নির্মাণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।
মীরসরাই ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্প-কারখানার কর্মকাণ্ডে খাল ও জলাশয় দখল হয়ে রেলপথে পানি জমার বিষয়ে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘নদী ও খাল উদ্ধারে সরকার কাজ করছে। যারা অনৈতিকভাবে দখলদারত্বের সঙ্গে জড়িত, সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হবে এবং কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’
তিনি আরো জানান, সোলার ও ইভির মাধ্যমে রেলের আধুনিকায়ন এবং যাত্রীসেবা বৃদ্ধির কাজ অব্যাহত রয়েছে।
এফপি/সা