নরসিংদীর ঘোড়াশাল পৌরসভা ও অন্যান্য পৌরসভার সার্বিক কার্যক্রম গতিশীল করে শৃঙ্খলায় ও স্বচ্ছতা ফিরাতে পলাশ ও নরসিংদীর তিন পৌরসভার প্রধান নির্বাহী (সিইও) পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ায় হয় জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে কর্মরত তিনজন সহকারী কমিশনারকে।
কিন্তু সেই নিয়োগ-ই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে পৌরসভাবাসীর। চলতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ওই তিন কর্মকর্তা পৌরসভায় নিয়মিত অফিস করছেন না । পৌরসভার কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে । সমস্যা সমাধানে নেওয়া যাচ্ছে না দ্রুত সিদ্ধান্ত। এতে করে জনসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে ভোগান্তিও বিড়ম্বনা ।
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি নরসিংদী স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শিউলি রহমান তিন্নীর স্বাক্ষরিত জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের তিনজন সহকারী কমিশনারকে তিন পৌরসভার সিইও পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
যার মধ্যে,নরসিংদী সদর পৌরসভায়, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার এফএম নাঈম হাসান শুভ, মাধবদী পৌরসভায়, মো: খালিদ হোসেন শিমুল ও ঘোড়াশাল পৌরসভায় মো: মাসুদ রানাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে নরসিংদী সদর পৌরসভার অতিরিক্ত সিইও পদে দায়িত্ব পাওয়া এফএম নাঈম হাসান শুভ জেলা প্রশাসনের নেজারত এবং তথ্য ও অভিযোগ শাখার চলতি দায়িত্ব পালন করছেন।
আর মাধবদী পৌরসভার অতিরিক্ত সিইও মো: খালিদ হোসেন শিমুল জেলা প্রশাসনের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার চলতি দায়িত্ব পালন করছেন।
অপরদিকে ঘোড়াশাল পৌরসভার অতিরিক্ত সিইও মো: মাসুদ রানা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের রাজস্ব মুন্সিখানা, অর্পিত সম্পত্তি এবং উন্নয়ন ও মানবসম্পদ শাখায় চলতি তিন পদে দায়িত্ব পালন করছেন । এসব চলতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পৌরসভায় নিয়মিত অফিস করতে করছেন না তারা।
সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার সকল কার্যক্রম ও মনিটরিং সিইওদের নির্দেশনাক্রমে হয়ে থাকে। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় সিইও-রা জেলা প্রশাসনের একাধিক শাখায় চলতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিয়মিত অফিস করতে পারছেন না।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে নরসিংদী পৌরসভার দূরত্ব কিছুটা কম হলেও ঘোড়াশাল পৌরসভার আসা-যাওয়ার দূরত্ব প্রায় ৩৪ কিলোমিটার। মাধবধী পৌরসভার আসা-যাওয়ার দূরত্ব প্রায় ২৮ কিলোমিটার। এসব সার্বিক দিক বিবেচনা করে নিয়মিত অফিস করতে পারছেননা সিইও-রা।
এ দিকে পৌরসভার ময়লার ডাম্পিং কাজে ব্যবহৃত গাড়ি নষ্ট হয়ে আছে। সিইওরা নিয়মিত অফিসে না আসায় পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্সসহ সকল কার্যক্রমে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। যেকোনো বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও মতামত নেওয়া যাচ্ছে না। গাড়ির যন্ত্রাংশ লাগানো যাচ্ছে না।
পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে, ময়লা, আর্বজনা জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে । এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, সেবাপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পৌরবাসী নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদী পৌরসভার সিইও এফএম নাঈম হাসান শুভ জানান, এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন। আর মাধবদী পৌরসভার সিইও মো: খালিদ হোসেন শিমুল বলেন, যদি আপনাদের কিছু জানার থাকে, তাহলে ডিসি স্যারের কাছে যান, ডিডিএলজি স্যারের কাছে যান।
তবে ঘোড়াশাল পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সিইও মো: মাসুদ রানা এসব বিষয়ে তিনি বলেন, এক সাথে দুই যায়গায় অফিস করা মানে এই খানে ফাঁকা পেলে ঘোড়াশালে অফিস করতে হয়। ঘোড়াশালে ফুল টাইম অফিস করা হয় না। দুই যায়গায় সময় দেওয়া খুবই কষ্টকর ।
এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা। ওইখানে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া দরকার, সেটা দিতে পারছি না। এটা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ স্যারদের জানিয়েছি।
নরসিংদী স্থানীয় সরকারের (উপপরিচালক) উপসচিব মোছা: নাদিরা আক্তার বলেন,এটা জেলা প্রশাসক স্যারের এখতিয়ার, এ বিষয়ে আমি ডিসি স্যারকে জানিয়েছি, আবার ও জানাবো, সিদ্ধান্ত দেওয়ার আমি কেউ না।
তবে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া জানান, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ দিকে জনস্বার্থে এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পৌরবাসী। তাদের দাবি নিয়মিত অফিস করেন এমন সিইও নিয়োগ দিলে নাগরিকদের কমবে ভোগান্তি, পৌরবাসী ফিরে পাবে স্বস্তি।
এফপি/সা