কক্সবাজারের উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মস্তকবিহীন এক মৃত্যুদেহ উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান (এপিবিএন)। ক্যাম্প প্রশাসনের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আটককৃতদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
শনিবার রাত ১১ টার দিকে উখিয়ার জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের সেফটিক ট্যাংকের ভিতর থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত হলেন উখিয়ার ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা নুরুজ্জুহার ছেলে আব্দুল হাফেজ (২২)।তিনি পেশায় ক্ষুদ্র দোকানি ছিলেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বে নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ( এপিবিএন ) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরো বলেন আটককৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
নিহতের বাবা নুরুজ্জুহার বলেন, গত সোমবার (২২ জুন) রাতে জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গার ক্যাম্পের স্থানীয় স্টেশনের দোকান থেকে আব্দুল হাফেজ ঘরে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কয়েকজন যুবক তাকে তুলে নিয়ে যায়।
ওইদিন রাতে ঘরে না ফেরায় সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাননি। এর দুইদিন পর ক্যাম্প ইনচার্জ বরাবরে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হয়।
ভুক্তভোগী বাবা আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে আব্দুল হাফেজের সন্ধানের এক পর্যায়ে ক্যাম্পের স্থানীয়রা জানায়- ঘটনার দিন এইচ-ব্লক এলাকায় কতিপয় লোকজনকে মারধর করতে দেখেছিলেন।
পরে ওই তথ্যের সূত্র ধরে খোঁজ নিতে গেলে একটি বাথরুমের সেফটিক ট্যাংকের ভিতর থেকে দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। এসময় সেফটিক ট্যাংকটির ঢাকনা খুললে মস্তকবিহীন মৃতদেহ দেখতে পান। পরে ক্যাম্পের স্থানীয় এপিবিএন পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
৮ এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত বুধবার(২৪ জুন) ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর থেকে নিখোঁজের সন্ধানে পুলিশ তৎপরতা শুরু করলেও সন্ধান পাননি।
শনিবার রাতে স্থানীয়দের খবরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসময় সেফটিক ট্যাংকের ভিতর থেকে মস্তকবিহীন অর্ধগলিত অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।লাশটি পঁচে যাওয়ায় অন্তত ৮/১০ দিন আগে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা সেফটিক ট্যাংকের ভিতরে ফেলে যায় বলে ধারণা কথা বলেন তিনি।
রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, কারা, কি কারণে এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে পুলিশ তা নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে প্রাথমিকভাবে ক্যাম্পে দুর্বৃত্তদের দুইপক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের জেরে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
তারপরও ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।