Dhaka, Sunday | 5 July 2026
         
English Edition
   
Epaper | Sunday | 5 July 2026 | English
সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ
জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি
আরও ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনছে সরকার
জুলাই জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
শিরোনাম:

দেশেই তৈরি হচ্ছে সমুদ্র গবেষণার বিশেষ জাহাজ

প্রকাশ: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম আপডেট: ০৫.০৭.২০২৬ ৫:৪৭ পিএম  (ভিজিটর : ১০)

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমা এখন শুধু মাছ আহরণের ক্ষেত্র নয়। এই সমুদ্রসীমা খনিজ সম্পদ, জ্বালানি, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু গবেষণার এক বিশাল সম্ভাবনার ভান্ডার। প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটারের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে (উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল) থাকা এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবার নিজস্ব গবেষণা জাহাজ পাচ্ছে বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট (বোরি)।

প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের আওতায় খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৩২ মিটার দীর্ঘ একটি আধুনিক গবেষণা জাহাজ এবং দুটি ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের দ্রুতগতির জলযান (স্পিডবোট)। জাহাজটির নির্মাণকাজ শেষ হলে প্রথমবারের মতো দেশের বিজ্ঞানীরা গভীর ও অগভীর সমুদ্রে গিয়ে নিয়মিত গবেষণা পরিচালনা করতে পারবেন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দে আন্তর্জাতিক মানের এই গবেষণা জাহাজ ও স্পিডবোট তৈরির জন্য বোরির সঙ্গে খুলনা শিপইয়ার্ডের চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে জাহাজটি এবং আগামী এক বছরের মধ্যে স্পিডবোট দুটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

গত ১৬ জুন বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ডে আনুষ্ঠানিক এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। বোরির সদ্যবিদায়ী মহাপরিচালক কমোডর মো. মিনারুল হকের সভাপতিত্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম প্রধান অতিথি হিসেবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এ জাহাজের নকশা প্রস্তুত করেছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক জাহাজ নির্মাণবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কিল মেরিন। নকশাটি কুয়েত এনভায়রনমেন্টাল এজেন্সির ব্যবহৃত পরীক্ষিত গবেষণা জাহাজের নকশার ভিত্তিতে তৈরি। এ ছাড়া জাহাজের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, চীন, তুরস্ক ও সিঙ্গাপুর থেকে সংগ্রহ করা হবে।

কক্সবাজারের রামুতে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০১৬ সালে সমুদ্রবিদ্যার ছয়টি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এত দিন সমুদ্রবিদ্যার জাতীয় এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা সাগর উপকূল ও মোহনায় গবেষণা কাজ চালাতেন মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে। পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে গিয়ে গবেষণার নমুনা সংগ্রহ করার জন্য বিদেশি বা অন্যান্য সংস্থার জাহাজের ওপর নির্ভর করতে হতো। এত দিন তাঁদের সমুদ্র গবেষণা মূলত উপকূলের কাছাকাছি এবং অগভীর পানিতে সীমাবদ্ধ ছিল। এতে শুধু পানির ওপরের স্তরের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, প্ল্যাংকটন বা দৃশ্যমান দূষণের মতো তথ্য সংগ্রহ করা যেত। গভীর সমুদ্র, সমুদ্রতল বা দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত পরিবর্তন নিয়ে কার্যকর গবেষণা সম্ভব হতো না।

বোরির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্মিতব্য জাহাজটিতে অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের সাহায্যে সমুদ্রের বিভিন্ন গভীরতার পানির নমুনা সংগ্রহ, তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাপ, ক্লোরোফিল ও পুষ্টি উপাদান বিশ্লেষণ, সমুদ্রতলের পলি ও খনিজ অনুসন্ধান, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য গবেষণা, মাছের অবস্থান ও পরিমাণ নির্ণয়, সমুদ্রস্রোতের গতি ও দিক নির্ধারণ, ঢেউ থেকে শক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই, আবহাওয়া ও জলবায়ু পর্যবেক্ষণ, তেল-গ্যাস সম্ভাব্যতাসংক্রান্ত ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। ৩২ মিটার দৈর্ঘ্যের এই জাহাজে থাকবে তিনটি বিশেষায়িত গবেষণাগার (ওয়েট ল্যাব, ড্রাই ল্যাব ও ডেটা বিশ্লেষণ ল্যাব)। সমুদ্র থেকে সংগ্রহ করা নমুনা জাহাজেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য সরাসরি সমুদ্র গবেষণার ডেটা সেন্টারে পাঠানো সম্ভব হবে।

জানা গেছে, গবেষণা জাহাজটিতে একসঙ্গে ২৩ বিজ্ঞানী ও ক্রু সদস্য অবস্থান করতে পারবেন। তাঁরা টানা ৮ থেকে ১০ দিন সমুদ্রে থেকে ২৪ ঘণ্টা গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। গভীর সমুদ্র থেকে উপকূলীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় পর্যবেক্ষণ চালানো সম্ভব হবে। জাহাজে সাব-বটম প্রোফাইলার, মাল্টি-বিম ইকো সাউন্ডার, সাইড-স্ক্যান সোনারসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি থাকবে, যার সাহায্যে সমুদ্রতলের নিচের স্তরের ছবি সংগ্রহ করা যাবে। এর মাধ্যমে কোথায় কী ধরনের পলি, খনিজ কিংবা ভূতাত্ত্বিক গঠন রয়েছে, তা নির্ণয় করা যাবে।

জানতে চাইলে বোরির পরিবেশ ওশানোগ্রাফি ও জলবায়ু বিভাগের প্রধান জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু শরীফ মো. মাহবুব-ই-কিবরিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নির্মিতব্য গবেষণা জাহাজে করে সমুদ্রতলের পলি, মাইক্রোপ্লাস্টিক, ভারী ধাতু ও বিভিন্ন জীবের নমুনা সংগ্রহ করে দূষণের ইতিহাস, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং সমুদ্রের কার্বন সংরক্ষণের সক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করা যাবে। একই সঙ্গে মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর বিস্তার এবং আবাসস্থল সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।’

এদিকে গবেষণা জাহাজ পরিচালনার জন্য কক্সবাজার শহরের অদূরে খরুশকূলে মহেশখালী চ্যানেল এলাকায় পন্টুন, জেটি ও গ্যাংওয়ে নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে বোরি থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এলজিইডি) জেটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

এফপি/র
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝