ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে উত্তেজনা। একদিকে প্যারাগুয়ের দুর্ভেদ্য রক্ষণ। অন্যদিকে, ফ্রান্সের অবিরাম আক্রমণ। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ের নিষ্পত্তি হয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পের ঠান্ডা মাথার পেনাল্টিতে। অধিনায়কের একমাত্র গোলেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফরাসিরা।
রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় বিশ্বকাপের শেষ ৩২- এর ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ায় মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স আর প্যারাগুয়ে। দারুণ লড়াই শেষে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স।
চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতার মধ্যে ম্যাচটি ছিল এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে কঠিন লড়াইগুলোর একটি। ম্যাচের সময় তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দিদিয়ের দেশমের দল। তবে সংগঠিত রক্ষণ আর গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ফ্রান্সকে বারবার হতাশ করে প্যারাগুয়ে।
প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স। এমবাপ্পে, ওসমান দেম্বেলে ও দেজিরে দুয়ের আক্রমণ বারবার প্রতিহত করেন প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডাররা। অন্যদিকে, দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে ফরাসি রক্ষণকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা চালায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। তবে দুই দলের কেউই জালের দেখা না পাওয়ায় বিরতিতে ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য।
বিরতির পর আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় ফ্রান্স। প্যারাগুয়েকে নিজেদের অর্ধে চেপে ধরে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। সেই চাপের মুখেই ৬৮তম মিনিটে আসে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। বক্সের ভেতরে ওসমান দেম্বেলেকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
পেনাল্টির সিদ্ধান্তের পর প্যারাগুয়ের কয়েকজন খেলোয়াড় স্পট ঘিরে মানসিক চাপ তৈরির চেষ্টা করেন। কিন্তু দেম্বেলে নিজে শট না নিয়ে বল তুলে দেন অধিনায়ক এমবাপ্পের হাতে। স্পটকিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি ফরাসি অধিনায়ক। নিচু শটে গোলরক্ষক গিলকে ভুল পথে পাঠিয়ে জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। সেই এক গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় প্যারাগুয়ে। শেষ দিকে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ালেও উইলিয়াম সালিবা, দায়ো উপামেকানোদের দৃঢ় রক্ষণে আর কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। নির্ধারিত ও যোগ করা সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।
এটি ছিল ফরাসিদের জন্য ধৈর্য ও দৃঢ়তার পরীক্ষা। পুরো ম্যাচজুড়ে শারীরিক ফুটবল, কঠোর ট্যাকল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ দিয়ে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলকে ভুগিয়েছে প্যারাগুয়ে। তবে বড় ম্যাচে আবারও পার্থক্য গড়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর গোলেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয় ফ্রান্সের।
এই গোলের মাধ্যমে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন এমবাপ্পে। টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যা এখন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সমান। আগামী ৯ জুলাই বোস্টনে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।
এফপি/অ