ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের অন্তত ১৫ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক, বিএনপি নেতাসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ও মানিকদহ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে রোববার সকালে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মানিকদাহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর এবং হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে কয়েক হাজার গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভাঙ্গাসহ আশপাশের কয়েকটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পরে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় পুলিশের সার্কেলের একজন কর্মকর্তা, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, কয়েকজন পুলিশ সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাংবাদিকসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের কারণে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ চেয়ে জেলা সদরে খবর দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে বলে জানা গেছে।
এফপি/অ