বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সরেজমিন গবেষণা বিভাগ বগুড়ার আয়োজনে তেল জাতীয় ফসলের উন্নত জাত ও উৎপাদন কলাকৌশল শীর্ষক কৃষক প্রশিক্ষণ এবং প্রধানমন্ত্রী কৃর্তক বৃক্ষরোপন কর্মসূচী উপলক্ষে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া মহানগরের চেলোপাড়ায় অবস্থিত সরেজমিন গবেষণা বিভাগ চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষকদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) এর সদস্য অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ কেনিডি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) গাজীপুর এর মহাপরিচালক ড. মোঃ মঞ্জুরুল কাদির এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ) বগুড়ার মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সরেজিমন গবেষণা বিভাগ (বারি) চেলোপাড়া বগুড়ার উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান।
সরেজিমন গবেষণা বিভাগ (বারি) চেলোপাড়া বগুড়ার ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহা তানবীর হাসান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৫-২৭ লক্ষ মেট্রিক টন। বর্তমানে দেশের মোট ভোজ্যতেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যাতে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।
অপরদিকে, দেশীয় উৎপাদন মোট চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ। দেশের ক্রমবর্তমান জনসংখ্যার ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং খাদ্য পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
বক্তারা বলেন বাংলাদেশের কৃষিতে তেলজাতীয় ফসলের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে সরিষা, সয়াবিন, সূর্যমুখী, তিল ও চিনাবাদামের আবাদ সম্প্রসারণের পাশাপাশি উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল জাত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে আমদানি নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে শতাধিক কৃষকের প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মাঝে কৃষি গবেষণা উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ফলজ বৃক্ষ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে কৃষি বিজ্ঞানী, গবেষক, কৃসি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, কৃষি উদ্যোক্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি, কৃষিবিদ নেতা, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এফপি/অ