শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একই দিনে তিনজনসহ মোট ৬ মাদরাসা ছাত্র নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের বয়স ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলো— উপজেলার বুরুঙ্গা কালাপানি গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে ইসরাফিল (১৫), পাঁচগাঁও এলাকার খন্দকার মোবারক হোসেনের ছেলে খন্দকার মাশরাফি (১২), উকিল মিয়ার ছেলে রাব্বানী (১০), মানিক মিয়ার ছেলে তোফায়েল (১২), আব্দুল আওয়ালের ছেলে রাসেল (১৪) এবং চান্দেরনগর এলাকার ওয়াসিমের ছেলে আব্দুলাহ আল আনসারী (১০)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মে সকালে বুরুঙ্গা কালাপানি এলাকার একটি হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্র ইসরাফিল দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।
এদিকে গত ৬ জুন দুপুরে নালিতাবাড়ী শহরের আড়াইআনী বাজার এলাকার তাহফিজুল কোরআন মডেল মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় খন্দকার মাশরাফি।
পরদিন ৭ জুন দুপুরে পাঁচগাঁও ইকরা তালিমুল নূরানীয়া মাদরাসা থেকে বের হয়ে রাব্বানী, তোফায়েল ও রাসেল নামে আরও তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর তারা আর নিজ নিজ বাড়িতে ফেরেনি।
সর্বশেষ সোমবার (৮ জুন) সকালে নালিতাবাড়ী খাদ্য গুদামসংলগ্ন এলাকা থেকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় আব্দুলাহ আল আনসারী নামে আরও এক মাদরাসা ছাত্র।
স্বজনরা জানান, সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তারা নালিতাবাড়ী থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে সন্ধান চাওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম বলেন, “নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশ প্রয়োজনীয় খোঁজখবর ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।”
উল্লেখ্য, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একই উপজেলার ৬ শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশুদের দ্রুত ও নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এফপি/অ