শরীয়তপুরের আংগারিয়া এলাকায় আর্জেন্টিনা সমর্থক এক মেয়ে বন্ধুর বাসায় দেখা করতে গিয়ে রুহুল আমিন নামের এক ব্রাজিল সমর্থককে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে বিয়ের শর্তে ওই ব্যক্তিকে পুলিশের জিম্মায় ছেড়ে দেয় তারা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিন নামের ওই ব্যক্তি সদর উপজেলার আঁটিপাড়া এলাকায়। তিনি একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। এছাড়াও তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। পাশাপাশি তিনি ব্রাজিল সমর্থক। তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে ব্রাজিল দলের পক্ষ নিয়ে পোস্ট করে থাকেন। অপরদিকে ওই মেয়ের নাম আঁখি আক্তার। তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঘুরাঘুরি শেষে আংগারিয়া বাঁগচী বাজার এলাকায় ওই মেয়ে বান্ধবীর বাসায় যান রুহুল। বিষয়টি টের পেলে স্থানীয়রা তাদের দুজনকে আটক করে। পরে তাদের সম্পর্কের কথা জিজ্ঞেস করা হলে রুহুল আমিন নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা জানালেও ওই মেয়ে দাবী করেন তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। একপর্যায়ে বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। পরে বিয়ের শর্তে ওই দুজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন বাড়ির মালিক ও স্থানীয়রা। এদিকে ফুটবল উন্মাদনার মাঝে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকের এমন ঘটনায় এলাকাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শরীয়তপুর ব্রাজিল সমর্থক ও ফ্যান্স ক্লাবের সদস্য সালাউদ্দিন মুন্না বলেন, রুহুল আমিন গত বিশ্বকাপ থেকে আমাদের ক্লাবের সাথে নেই। আমরা পতাকা টানানোর উদ্দেশ্যে গত বিশ্বকাপে সকল সদস্যদের থেকে একটি ফি ধরেছিলাম সে দেয়নি বলে তাকে আমরা আমাদের ক্লাব থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছি। তাই তার দায় দায়িত্ব আমরা নিবো না।
অপরদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থক ও ফ্যান্স ক্লাবের সদস্য আবিদ খান বলেন, আমাদের মেসিকে দেখুন তিনি এক নারীতেই আসক্ত। অপরদিকে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কিছুদিন পর পর প্রেমিকা পরিবর্তন করে। গতকাল শরীয়তপুরে এক ব্রাজিল সমর্থক প্রেমিকার সাথে দেখা করতে গিয়ে আটক হয়েছে জেনেছি। দলের খেলোয়াড় যেমন তাদের সমর্থকরাও একই।
এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ঘোরাঘুরি শেষে অবৈধ এবং অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এলাকাবাসী ওই দুজনকে একটি বাসায় আটক করে। পরে আমরা খবর পেয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসি। তাদের দুজনকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এফপি/এমআই