ময়মনসিংহের ভালুকায় সাহায্যের আড়ালে ভয়ংকর এক জালিয়াতি, এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাওয়া পোশাক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের এটিএম কার্ড অভিনব কৌশলে নিমিষেই অদলবদল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এমন প্রতারণার শিকার স্থানীয় ও কারখানায় কর্মরত অনেক পোশাক শ্রমিক। তবে সম্প্রতি এই জালিয়াত চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভালুকায় এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাওয়া পোশাকশ্রমিক ও সাধারণ মানুষের কার্ড বদলে টাকা আত্মসাৎ করছে একটি প্রতারক চক্র। সাহায্যের কথা বলে বুথে ঢুকে সুকৌশলে এটিএম কার্ড অদলবদল করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই গ্রাহকের ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে তারা। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার জামিরদিয়া ও মাস্টারবাড়ি এলাকার এটিএম বুথকে কেন্দ্র করে এ প্রতারণা চললেও সম্প্রতি স্থানীয়দের হাতে জসিম উদ্দিন নামে চক্রের এক সদস্য আটকের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আটক ব্যক্তির নাম জসিম উদ্দিন। গত শুক্রবার উপজেলার স্কয়ার ফ্যাক্টরির ২ নম্বর গেটসংলগ্ন একটি এটিএম বুথ থেকে তাঁকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁকে ভালুকা মডেল থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিল্পাঞ্চল এলাকাগুলোতে এটিএম বুথগুলো যখন সাধারণ মানুষের টাকা উত্তোলনের ভরসা, ঠিক তখনই এক শ্রেণির ধূর্ত প্রতারকের জন্য এটি হয়ে উঠেছে 'শিকারের' জায়গা। সাহায্যের অজুহাতে বুথে ঢুকে অত্যন্ত সুকৌশলে গ্রাহকের পিন নম্বর দেখে নেয় তারা। এরপর চোখের পলকে গ্রাহকের আসল কার্ডটি সরিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হয় অকেজো অন্য একটি কার্ড। গ্রাহক কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেন তারা। বিশেষ করে এই প্রতারক চক্রের লক্ষ্যবস্তু পোশাক কারখানার সাধারণ শ্রমিক, নারী বা এটিএম ব্যবহারে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরা। আর প্রতারকেরা সাধারণত এটিএম বুথের আশপাশেই অবস্থান করে।
ভুক্তভোগী হৃদয় মীর বলেন, গত ৮ মে তাঁর মা হেলেনা আক্তার একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান। সেখানে জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি সহায়তার কথা বলে তাঁর কার্ড হাতে নেন। পরে কার্ড বদলে দিয়ে তাঁদের হিসাব থেকে ২৮ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। মোবাইলে ব্যাংকের বার্তা পেয়ে তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন। একই কায়দায় ইদ্রিস আলীর এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন এই চক্র, আনিসুর রহমান, মরিয়ম হাফসা ও বিথী রানীসহ আরও অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে অনেকেই ঝামেলা ও হয়রানির আশঙ্কায় আইনের সাহায্য বা থানায় অভিযোগ করেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, শিল্পাঞ্চলের এটিএম বুথগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের প্রতারণা চলছে। বিশেষ করে বেতন পাওয়ার সময় পোশাকশ্রমিকদের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে প্রতারকেরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। বুথে নিরাপত্তার ঘাটতি ও পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় তারা সহজেই প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে একই কায়দায় শুক্রবার স্কয়ার ফ্যাক্টরির ২ নম্বর গেটের সামনে একটি এটিএম বুথে প্রতারণার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা জসিম উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এটি একটি সক্রিয় প্রতারক চক্র এটিএম বুথে কার্ড অদলবদল করে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। বিশেষ পোশাক শ্রমিক ও এটিএম ব্যবহারে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের টার্গেট করে এই প্রতরণা চালিয়ে আসছিলে। ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ইতেমধ্যে জসিম উদ্দিন (৩৩) নামে এ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। এবং এ চক্রের অন্য সদস্যদেরকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া নেওয়া হবে বলেও জানান।
ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটিএম কেন্দ্রিক প্রতারণা রোধ করতে বুথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার ও সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এদিকে সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি'র সিডস্টোর বাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো: নাজমুল হোসাইন জানান, কখনো কোথাও অপরিচিত কাউকে ব্যাংকের কার্ড বা পিন নম্বর না দেওয়া ও সতর্কতার সহিদ লেনদেন করা উত্তম এবং কোনো সমস্যা মনে হলে তৎক্ষনাৎ সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সহায়তা নেওয়া। একই পরামর্শ দিয়েছেন সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি'র সিডস্টোর বাজার শাখার সিনিয়র অফিসার আনোয়ারুল হক ।
এফপি/অ