চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আদালতপাড়ায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কমিশনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পাঁচ সদস্যের মধ্যে দুই পক্ষের অবস্থান এখন সম্পূর্ণ বিপরীত। এক পক্ষের অভিযোগ, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে নির্বাচন পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তাদের দাবি, মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও প্রার্থী তালিকা প্রকাশে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত সময়সীমা যথাযথভাবে মানা হয়নি। পাশাপাশি বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশে বিলম্ব এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তালিকা প্রকাশ করায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু প্রার্থীর নাম ব্যাখ্যা ছাড়াই বাদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে কমিশনের অপর পক্ষ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাখতে সব সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্র ও নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিছু প্রার্থী মনোনয়ন ফি পরিশোধ না করায় নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে বলেও তারা জানান।
নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য আরও বলেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ কমিশনের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করছে। প্রয়োজনে সব নথিপত্র প্রকাশ করে স্বচ্ছতা প্রমাণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি এবং জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের পর থেকে তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাধীন। সমিতির এখানে সরাসরি হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে তা কমিশন বা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। সমিতি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়, তবে প্রশাসনিকভাবে তাদের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই।
অন্যদিকে একটি অংশ নির্বাচন কমিশনকে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে নতুন কমিশন গঠনের দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, কিছু সদস্য রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যার ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম আদালতপাড়ায় নির্বাচন ঘিরে বিভাজন ও উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। দ্রুত সমাধান না হলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও আইনজীবী সমিতির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এফপি/অ