পিরোজপুরের কাউখালীর দক্ষিণ বাজারে অভিযান চালিয়ে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ ঘোষিত প্রায় ৩০ কেজি রাক্ষসী মাগুর মাছ জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাছ স্থানীয় তিনটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
সোমবার (১১ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বাজারে সাপ্তাহিক হাটের মাছ বাজারে অভিযান চালিয়ে এ মাছ জব্দ করেন উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর।
জানাযায়, উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারিরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকালে মাছের বাজারে একটি মাছের দোকানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আফ্রিকান মাগুর মাছ বিক্রির সময় অভিযান চালায়। এ সময় মাছ বিক্রেতা পালিয়ে যায়। পরে জব্দকৃত নিষিদ্ধ প্রায় ৩০ কেজি মাছ উপজেলা পরিষদে নিয়ে এসে স্থানীয় তিনটি এতিমখানায় তা বিতরণ করা হয়।
কাউখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, আফ্রিকান মাগুর মাছ একটি আগ্রাসী ও ক্ষতিকর বিদেশি রাক্ষসী মাছ। এটি দেশীয় মাছ ধ্বংস করে জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। সরকার এ মাছের উৎপাদন, চাষ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
এই নিষিদ্ধ মাছ বিক্রির সময় মৎস্য সংরক্ষণ আইনে অভিযান চালিয়ে আফ্রিকান মাগুর মাছ জব্দ করা হয়েছে। পরে মাছ গুলো এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুব্রত কর্মকার বলেন, আফ্রিকান মাগুর মাছ খাওয়া মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ক্ষতিকর। আফ্রিকান মাগুর নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টির সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়। এই মাছের ক্ষতিকর ভারী ধাতু শরীরে জমে গেলে মস্তিষ্ক, কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। দেশি মাগুর মাছ শরীরের জন্য উপকারী হলেও আফ্রিকান মাগুর এর রাক্ষুসে প্রকৃতি ও স্বাস্থ্যের ক্ষতির কথা চিন্তা করে কেনা বা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাজারে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছ জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত মাছ স্হানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি আফ্রিকান মাগুর মাছ বিক্রি করেন, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এফপি/জেএস