ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকটি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক (বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন) সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং ভুটানসহ বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের দেশগুলো অংশগ্রহণ করে।
গত বছরের আগস্টে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে, বিশেষ করে ভারতে হাসিনার আশ্রয় গ্রহণ এবং তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের কারণে। ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকালে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ঢাকা সরকার এই অভিযোগগুলোকে অতিরঞ্জিত এবং সাম্প্রদায়িক নয় বলে দাবি করেছে।
পর্যবেক্ষকরা এই বৈঠককে দুই দেশের ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। ভারত ও বাংলাদেশ প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার সীমান্ত এবং গভীর সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন ভাগ করে, যেখানে ভারত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
বৈঠকের সময়, দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। এই বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে এবং সম্পর্ক উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।