যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। যেহেতু এটি আলোচনাযোগ্য, তাই আমরা আলোচনা করব এবং আমি নিশ্চিত যে আমরা সর্বোত্তম সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বৃহস্পতিবার ব্যাংককে এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়টি এখনো আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এটি পর্যালোচনা করছি এবং আমাদের গৃহীত পদক্ষেপে আশাবাদী যে সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। আমরা এমন একটি সমাধানের দিকে যেতে পারব, যাতে উভয় পক্ষের জন্য উইন-উইন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ’ নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি এবং প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এই খাতে নিয়োজিত।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আমাদের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমরা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করে আসছি।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতায় প্রভাব পড়তে পারে এবং মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা হ্রাস পেতে পারে। তবে, সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানে কাজ করছে।
বিশ্বব্যাপী ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক নীতির ফলে অন্যান্য দেশও প্রভাবিত হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, চীনসহ বিভিন্ন দেশের ওপরও উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা তাদের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক সমস্যার সমাধানে আশাবাদী এবং উভয় দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।