গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ৫৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছেন । এই অব্যাহত হামলায় গাজার সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে নতুন একটি ‘মোরাগ করিডোর’ স্থাপন করা হবে, যা গাজাকে বিভক্ত করবে এবং হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে । এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য নতুন করে দুর্ভোগ বয়ে আনবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৫০,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন । এছাড়া, হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সেবার অভাবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের ফলে গাজার রাফাহ শহরে শত শত হাজার মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন । রাফাহ, যা আগে থেকেই শরণার্থীদের আশ্রয়স্থল ছিল, এখন সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাদের ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে বর্ণনা করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
গাজার নিরীহ মানুষের এই দুর্দশা অবসানের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। ফিলিস্তিনি জনগণের মানবাধিকার রক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।