রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম শামীম ও তাঁর স্ত্রী লুৎফুন নাহার ঈদের ছুটিতে তিন মেয়ে প্রেমা, আনিশা ও লিয়ানাকে নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁদের ভাগনি তানিফা ইয়াসমিন। কিন্তু এই আনন্দযাত্রা মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় রূপ নেয়, যেখানে রফিকুল ইসলামসহ পরিবারের চার সদস্য প্রাণ হারান। এ দুর্ঘটনায় মোট ১০ জন নিহত হন।
গত বুধবার সকালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে কক্সবাজারগামী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসে থাকা রফিকুল ইসলাম (৪৮), তাঁর স্ত্রী লুৎফুন নাহার (৩৭), ছোট মেয়ে লিয়ানা ও ভাগনি তানিফা ইয়াসমিন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর মেজ মেয়ে আনিশাও মারা যায়। বর্তমানে বড় মেয়ে প্রেমা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।
এই দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা রফিকুল ইসলামের সহকর্মী দিলীপ বিশ্বাস (৪৩) ও তাঁর স্ত্রী সাধনা মণ্ডল (৩৭), সহকর্মী আশীষ মণ্ডল (৫০) ও মোক্তার আহমেদ (৫২), এবং মাইক্রোবাসের চালক ইউসুফ আলী (৫৭) নিহত হন। দিলীপ বিশ্বাসের মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস (৮) গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রফিকুল ইসলামের শ্যালক রবিউল হাসান জানান, তাঁর বোনের পরিবার ঈদের পরদিন রাতে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দুর্ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে তাঁরা প্রথমে জানতে পারেন এবং পরে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় নিশ্চিত হন।
প্রেমার ছোট মামি জেসমিন রহমান বলেন, “মা-বাবা ও দুই বোনের সবাই মারা গেল। পরিবারের কেউ তো আর বেঁচে নেই। এখন যদি আল্লাহ মেয়েটিকে বাঁচিয়ে রাখে। এটাই কামনা।”
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা সম্প্রতি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে। ঈদের দিন (৩১ মার্চ) দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। পরদিন (১ এপ্রিল) একই স্থানে দুটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৯ জন আহত হন। স্থানীয়রা এ স্থানটিকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।