চট্টগ্রামে জনতা ব্যাংকের প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ব্যাংকের সাবেক পাঁচ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধারায় মোট ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১০ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জনতা ব্যাংক শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার সাবেক কর্মকর্তা মো. আবু তৈয়ব, বাবুল চন্দ্র মজুমদার, রনেন্দ্র বিকাশ সাহা, মোসলেম উদ্দিন এবং প্রধান কার্যালয়ের সাবেক এসপিও মো. সাঈদ হোসেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একই শাখার সাবেক কর্মকর্তা নুরুল হুদাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি অ্যাডভোকেট মো. এনামুল ইসলাম জানান, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও দালিলিক প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। আদালত দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় পাঁচ বছর, ৪২০ ধারায় দুই বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এক বছরের কারাদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামিই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপর আসামি আবু বকর সিদ্দিকীর রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ২৯ মার্চ পর্যন্ত সময়ে জনতা ব্যাংক শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার কিছু কর্মকর্তা ও গ্রাহক যোগসাজশে বিভিন্ন হিসাব থেকে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করেন। পরে তা একাধিক চলতি ও এসটিডি হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তে মোট ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ২০০০ সালের ৬ এপ্রিল ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১১ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ২০১৩ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
এফপি/এমআই