যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একটি নতুন শুল্ক নীতি ঘোষণা করেছেন, যার আওতায় বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই নীতির ফলে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে, যা পূর্বের ১৫ শতাংশ গড় শুল্কের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গড় শুল্ক ছিল ১৫ শতাংশ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ‘লিবারেশন ডে’ ঘোষণায় বলেন, অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অবিচার করেছে এবং তাদের পণ্যের ওপর অসম শুল্ক আরোপ করেছে। তিনি যুক্তি দেন, এই নতুন ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে আবার অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করবে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর শুল্ক হার
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর ওপরও উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ২৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ওপর ৪৪ শতাংশ এবং নেপালের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির একটি প্রধান অংশ। এই নতুন শুল্ক হার বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে কেউ’ই জয়ী হবে না এবং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
অনেক দেশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলো এই শুল্ক বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশ সরকার এবং রপ্তানিকারকদের এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করা জরুরি। বিশ্ব বাণিজ্যে এই ধরনের পরিবর্তনগুলি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।