যশোরের কেশবপুরে হঠাৎ করেই ডায়রিয়া ও জ্বর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভিড় ও সেবাদানে চাপ। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় হাসপাতালের বেড ছাড়াও বারান্দা ও মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে রোগীর সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়েছে। ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে শুয়ে থাকতে হচ্ছে। কেউ কেউ আবার বারান্দায় অস্থায়ীভাবে অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশু, নারী ও বয়স্ক রোগীদের ভিড়ে হাসপাতালের পরিবেশ হয়ে উঠেছে মানবেতর।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে ডায়রিয়া ও জ্বর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন অন্তত ১৮ জন, জ্বরে আক্রান্ত ৭ জন এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছেন অন্তত ১ জন রোগী। এছাড়া বহির্বিভাগ ও অন্যান্য ওয়ার্ড মিলিয়ে মোট রোগীর সংখ্যা একশোরও বেশি।
অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সিং সুপারভাইজার আমেনা খাতুন জানান, ৫০ শয্যার বিপরীতে সীমিত সংখ্যক সেবিকা দিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। এতে করে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে এসে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই জানান, বেড তো দূরের কথা, মেঝেতেও জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের নিয়ে বারান্দায় অবস্থান করতে হচ্ছে। দীর্ঘসময় অপেক্ষা ও অস্বস্তিকর পরিবেশে থাকতে গিয়ে অনেক স্বজন নিজেরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
একজন রোগীর অভিভাবক বলেন, ‘ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। ভেতরে জায়গা না পেয়ে বাইরে বসে থাকতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা নেওয়া খুবই কষ্টকর।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া ও জ্বর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বর্তমানে বেডের তুলনায় রোগী অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়ে মেঝেতেও রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।”
তিনি আরও জানান, জনবল সংকট বিশেষ করে নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাব পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলেছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, মৌসুমি পরিবর্তন, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার ঘাটতির কারণে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জনসচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালের সেবা স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, বেড সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল।
এফপি/জেএস