মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে টানা অতিবৃষ্টির কারনে ২৫৫ হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা, অনেকেই এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গলে মোট ১১ হাজার ৪১২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক অবিরাম বর্ষণে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রায় ২৮৭ হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৫ হেক্টরের ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং আংশিক ক্ষতির মুখে পড়েছে আরও ৩২ হেক্টর জমির ফসল।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ভূনবীর, শ্রীমঙ্গল সদর, কালাপুর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের হাইল হাওর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কৃষকরা শেষ চেষ্টা হিসেবে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে, শুধু ধানই নয়-অতিবৃষ্টির প্রভাবে উপজেলায় ১৩১ হেক্টর সবজি ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩০ হেক্টর। পাশাপাশি আউশ ধানের বীজতলার ১ হেক্টর জমিও নষ্ট হয়ে গেছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন জানান, আকস্মিক অতিবৃষ্টির কারণে হাইল হাওর এলাকার ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। শ্রীমঙ্গলে ১১৪১২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের ২৮৭ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তত করা হচ্ছে।
এফপি/জেএস