শেরপুর শহরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও পাচারের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে ৮৩৫ লিটার ডিজেল জব্দ এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে শেরপুর পৌর শহরের মেসার্স বাবর ফিলিং স্টেশনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও পাচারের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯-এর ৫২ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে শেরপুর শহরের বাবর ফিলিং স্টেশন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানে করে চারটি ড্রামে প্রায় ৮৩৫ লিটার ডিজেল মজুদের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এসময় শেরপুর সদর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভ্যানসহ তেল জব্দ করে ও ফিলিং স্টেশনের দুই কর্মচারীকে আটক করে।
আটককৃতরা হলেন, সদর উপজেলার ছয়ঘড়িপাড়া গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে রবিন এবং গৌরীপুর এলাকার হরমুজ আলীর ছেলে জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে বুধবার সকালে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনডিসি) রাজিব সরকারের নেতৃত্বে বাবর ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
এসময় আগের রাতে জব্দ করা তেল ও আটক দুই কর্মচারীকে সেখানে নেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধভাবে তেল মজুদের উদ্দেশ্যে বহনের অপরাধে বাবর ফিলিং স্টেশনকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করে। ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বে থাকা ফজলুল হকের নামে এই জরিমানা আরোপ করা হয়।
এসময় জব্দকৃত ৮৩৫ লিটার ডিজেল উন্মুক্ত পদ্ধতিতে সরকার নির্ধারিত দামে উপস্থিত জনসাধারণের মধ্যে বিক্রি করা হয়। এতে মোট ৯৬ হাজার ৪২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, রাতে চার ড্রাম তেলসহ একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান আটক করা হয়। পরে সেগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমের জন্য ফিলিং স্টেশনে নেওয়া হয়। আদালত বাবর ফিলিং স্টেশনকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। জরিমানা পরিশোধের পর আটক রবিন ও জিয়াউর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনডিসি) রাজিব সরকার বলেন, বাবর ফিলিং স্টেশনে অবৈধ তেল মজুদের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জব্দকৃত ডিজেল উন্মুক্তভাবে বিক্রি করে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
এফপি/জেএস