টেকসই কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈব-বালাইনাশক বা বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারের ওপর একটি ব্যতিক্রমী কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ।
কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমান কৃষিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বায়োপেস্টিসাইডকে একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়। এতে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন টেকসই করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি ব্র্যাক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের হাইব্রিড ধান “রাজা”, করলা বীজ “মনি”, ভুট্টা ১৬৪ ও আলু বীজ সহ ব্র্যাক সিডের সকল বীজ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের রাজশাহী রিজিওনের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মো. আরিফুল ইসলাম এবং রাজশাহী-১ (সবজি ও বায়োপেস্টিসাইড) রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মো. মুরাদ হোসেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র টেরিটোরি সেলস অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম, টেরিটোরি সেলস অফিসার মো. মারুফ হাসান এবং স্থানীয় ডিলার মো. রফিকুল ইসলাম ও ১০ জন রিটেইলার।
কর্মশালায় রাজশাহীর পবা উপজেলার ৫০ জন মডেল কৃষক অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে কৃষকদের বায়োপেস্টিসাইডের পরিচিতি, প্রয়োগ পদ্ধতি, কার্যকারিতা এবং ফসলের ক্ষতিকর রোগ ও পোকা দমনে এর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক তার বক্তব্যে বলেন, “রাসায়নিক কীটনাশক থেকে বায়োপেস্টিসাইডে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি। টেকসই কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে কৃষকদের মধ্যে জৈব-বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। সারা বাংলাদেশে কৃষির উন্নয়নে ব্র্যাক সিডের এমন পদক্ষেপ প্রশংসনীয়।”
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কৃষকরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জৈব-বালাইনাশকের মাঠ পর্যায়ের কার্যকারিতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করেন। আয়োজকরা আশা করছেন, এই ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এফপি/জেএস