ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বহুল আলোচিত শিশু নিশাত (৬) হত্যাকাণ্ডে অবশেষে রহস্যের জট খুলেছে। পুলিশের পাশাপাশি পিবিআইয়ের (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) প্রযুক্তিনির্ভর ও সূক্ষ্ম তদন্তে চাঞ্চল্যকর এই হত্যার নেপথ্যের ভয়াবহ ঘটনা সামনে এসেছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মো. ইছা মিয়ার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে শিহরণ জাগানো বর্ণনা, যা পুরো জেলাজুড়ে নতুন করে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ১৫ এপ্রিল বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশের এলাকায় একা থাকা অবস্থায় নিশাতকে লক্ষ্য করে অভিযুক্ত। পরে কৌশলে ‘ঘুরতে যাওয়ার’ প্রলোভন দেখিয়ে তাকে সঙ্গে নেয়। দিনের বেলায় বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির পর সন্ধ্যার দিকে শিশুটিকে নিজের বসতঘরে নিয়ে যায়।
জবানবন্দি অনুযায়ী, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটির ওপর অমানবিক আচরণ শুরু করে সে এবং তাকে জোরপূর্বক আটকে রাখার চেষ্টা চালায়। কিন্তু নিশাত কান্নাকাটি শুরু করলে এবং পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এ অবস্থায় ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে এক ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয় অভিযুক্ত। সে শিশুটির মুখ চেপে ধরে দীর্ঘ সময় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে—এমনটাই স্বীকার করেছে জবানবন্দিতে।
হত্যার পর মরদেহ গুম করতে পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেয় সে। প্রথমে নিজের ঘরে লাশ লুকিয়ে রাখে এবং পরদিন গভীর রাতে বস্তাবন্দি করে পার্শ্ববর্তী বিলে ফেলে দেয়, যাতে কেউ সহজে খুঁজে না পায়।
(১৭ এপ্রিল) শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় এক যুবক বাড়ির পাশে একটি সন্দেহজনক বস্তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি জানালে পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পোশাক দেখে নিশাতকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় মুহূর্তেই এলাকায় নেমে আসে শোক ও ক্ষোভের ছায়া।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ফুটেজে দেখা শিশুটিই নিশাত। তবে পিবিআইয়ের নিবিড় যাচাই-বাছাই ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি ভিন্ন একটি শিশু। এই গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।
পরবর্তীতে পিবিআই ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জটিল এই মামলার রহস্য উদঘাটন পিবিআইয়ের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
এদিকে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এফপি/জেএস