২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেতে থানায় আশ্রয় নিয়েছেন তহমিনা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইন্দুরকানী উপজেলার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
তহমিনা আক্তার (১৭) জিয়ানগর সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। চাড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা আলম হাওলাদারের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তহমিনা আক্তার জিয়ানগর সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। লেখাপড়ায় ভালো এই শিক্ষার্থী চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ইতিমধ্যে পরীক্ষার রুটিনও দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু পারিবারিকভাবে বাল্যবিবাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রতিরোধে প্রথমে পরিবারের সঙ্গে কথা বললেও সমাধান না হওয়ায় দুই দফায় ইন্দুরকানী থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন।
সহপাঠীরা জানান, তহমিনা একজন মেধাবী ও নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী শিক্ষার্থী। দীর্ঘ দূর পর্যন্ত পড়াশোনা করা তার ইচ্ছা। কিন্তু ইতিমধ্যেই তার পরিবার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তাহমিনার বন্ধু ফারহানা জানান তাহমিনা সাথে তার পরিবার জড়াজড়ি করে বাল্য বিয়ে দিতে চাচ্ছিল কিন্তু তাহমিনা রাজি ছিল না। তাই বাধ্য হয়েই সে থানায় আশ্রয় নিয়েছে। আমরা প্রশাসনের সহায়তা চাই।
প্রতিবেশী তাজুল ইসলাম বলেন, পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণেই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল। তবে বাল্যবিবাহ কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না।
তহমিনা আক্তার বলেন, আমার পরিবার আমাকে জোর করে বিয়ে দিতে চাইছে। আমি এখন বিয়ে করতে চাই না। সামনে আমার এসএসসি পরীক্ষা, আমি পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। তাই আমি দুইবার থানায় গিয়ে সাহায্য চেয়েছি। আমি পুলিশ সুপারের সাহায্য চাই।
তহমিনার বাবা আলম হাওলাদার জানান, মেয়ের সিদ্ধান্তকে আমরা মেনে নিয়েছি। এ বিষয়ে থানায় কথা হয়েছে। আমরা মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আর কোনো জোরাজোরি করবো না।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাকির হোসেন বলেন, তাহামিনের বাবা ভুল করতেছিল। আমরা তহমিনাকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করতে আমরা চেষ্টা করছি।
ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শামিম হাওলাদার জানান, বিষয়টি উনারা পারিবারিকভাবে সমাধান করা হয়েছে। অভিভাবকদের থানায় ডেকে লিখিতভাবে বাল্যবিবাহ না দেওয়ার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাক্ষী রাখা হয়েছে।
এফপি/জেএস