চলচ্চিত্রে প্রতারক অধ্যায়ে অভিনয় করা ডিজে সোহেল বাস্তব জীবনেও এক ভয়ংকর প্রতারক। পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হাজির হয়েছে অনুষ্ঠানের ডোনার সেজে। উদ্দেশ্য একটাই, এফডিসি লুটপাট করা।
প্রতারণা করতে ডিজে সোহেল রাজনৈতিক দলের মুখোশ পাল্টে যখন যেখানে যেমন দরকার তখন সেখানে তেমনি নিজেকে উপস্থাপন করে। শিল্পী সমিতির সনামধন্য ব্যাক্তিদের প্রশংসা করে তাদের কাছাকাছি থেকে চামচাদের ছত্রছায়ায় নিজের অবস্থান শক্ত করে গড়তে তুলতে পটু তিনি। নিজের আপন ভাইকে বাদ দিয়ে পিতার ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে অর্থসম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে একাই।
২০১০ সালের দিকে আওয়ামী লীগের কর্মী পরিচয়ে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করে এই সোহেল। সিনেমায় কিছুটা পরিচিতি পাওয়ার পরে গুলশান বনানী ও আভিজাত্য এলাকার বিধবা অর্থশালী নারীদের টার্গেট করে পরিচয় হওয়ার দু-একদিনের মধ্যে বিয়ে করে হাতিয়ে নেয় নগদ টাকা ও নানারকম সুবিধা। প্রয়োজনীয় ভোটার আইডি তৈরি করে একটি কাবিননামাও করে। এরপরে নিয়ে যায় বিদেশে। পরে সকল তথ্য সকলের অজানায় রয়ে যায়। ভুক্তভোগী নারীরা এই প্রতারকের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চায় না। আমেরিকার পাসপোর্ট অনুযায়ী তার নাম দেখা যায় মোরশেদ আহমেদ। বাংলাদেশের তিনি অর্ধশত ভোটার আইডি নকল নামে তৈরি করে ডজন খানেক বিয়েও করেছে।
লামিয়া মিমো নামের এক নায়িকা বিয়ের আগে ও পরে একাধিক বিয়ের সন্ধান পাওয়া যায়। উত্তরার উত্তরখান এলাকায় তার একটি বৃহৎ প্লটের সাইনবোর্ডে তার নাম মোরশেদ আহমেদ উল্লেখ করছে। আজ এফডিসিতে ঘুরে ডিজে সোহেল সম্পর্কে তথ্য নিতে অনুসন্ধান করে জানা যায় তিনি ছিলেন নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের একজন প্রতারক নেতা। বিভিন্ন দিবসে আওয়ামী লীগের পক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের ছবি প্রচার করতে পোস্টার ছাপানো ও চাঁদাবাজি করা ছিলো তার পেশা।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্যরা বলছেন আওয়ামী লীগের দোসর ডিজে সোহেল। সে এফডিসিতে বৈশাখের মিলনমেলায় টাকা দিয়ে ডোনার সেজে কুমতলব নিয়ে এসেছিলো। কার ছত্রছায়ায় এসেছে সেই বিষয়টি পরীক্ষা করা হবে। একই সাথে প্রতারক সোহেলকে উপযুক্ত বিচার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২০১৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করে ঢাকা ১৮ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন সার্টিফিকেট নাই। আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে দু’একটি ভুলবাল ইংরেজি শব্দ শিখে সেটাই বলে চলছে। সিনেমার এই হাস্যকর খলনায়কের কোন আয়ের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। অথচ শত কোটি টাকার মালিক বলে নিজেকে প্রকাশ করে।
আওয়ামী লীগের নেতা হয়েও এফডিসিতে প্রকাশ্য উপস্থিতিতে তাকে কোন বেগ পেতে হয়েছে কি-না এমন মন্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইলে ফোন দিলে ফোন গ্রহণ করেনি। হটসঅ্যপে বার্তা দিলেও প্রত্যুত্তর দেয়নি।
এফপি/এমআই