পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের কলারদোয়ানিয়া গ্রামে গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দুলাল রাড়ী নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাড়ির মালিক উজ্জ্বল বাহাদুর (৫১) ও তার ছেলে মিশকাফ বাহাদুর (১৯)। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ডাকাত দুলাল রাড়ী বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার একতা বাজার এলাকার মজিবর রাড়ীর ছেলে। পালিয়ে যাওয়া অন্যদের পরিচয় এখনো সনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৭ জনের একটি ডাকাত দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে উজ্জ্বল বাহাদুরের বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় তারা বাড়ির মালিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করলে পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও কোপাকুপির ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করে। এতে ডাকাত দলের বাকি ৬ সদস্য ফাঁকা গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সংঘর্ষে এক ডাকাত ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়।
পরে আহতদের উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই ডাকাতকে মৃত ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে গুরুতর আহত উজ্জ্বল বাহাদুর ও তার ছেলে মিশকাফ বাহাদুরকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
উজ্জ্বল বাহাদুর স্থানীয় একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক ও ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে ডাকাতরা বাড়িতে ঢুকেছিল। তবে গৃহকর্তার পরিবারের প্রতিরোধের মুখে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে হতাহতের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মশিউর রহমান বলেন, আহত ডাকাতকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার পরে তিনি মৃতবরণ করেন। এছাড়া আহত বাড়ির মালিক ও তার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে গভীর রাতে ডাকাতির ও নিহত ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রীয়াধী রয়েছে।
এফপি/জেএস