সকাল থেকে নিখোঁজ, দিনভর উৎকণ্ঠা- আর রাত নামতেই মেলে নির্মম পরিণতি। কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছর বয়সী শিশু আয়শা খাতুনের নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর, তাও নিজের বাড়ির পাশ থেকে। এমন ঘটনায় শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন, চিলমারী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। এর আগে শুক্রবার ১৭ এপ্রিল রাতে উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা শাহপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আয়শা খাতুন (২) স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের মেয়ে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বাড়ির আশপাশেই খেলছিল আয়শা। একসময় তাকে আর দেখা যায়নি। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও কোনো সন্ধান পাননি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা, ছড়িয়ে পড়ে শঙ্কা।
দিনভর ব্যর্থ খোঁজের পর রাতে বাড়ির পাশেই একটি স্থানে পুনরায় অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে মিলেছে শিশুটির মরদেহ। মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে পরিবার, চারদিকে নেমে আসে শোকের ছায়া।
মরদেহ উদ্ধারের সময় শিশুটির চোখ উপড়ে ফেলা অবস্থায় পাওয়া গেছে-যা ঘটনাটিকে আরও নৃশংস ও মর্মান্তিক করে তুলেছে। এ দৃশ্য দেখে স্বজনরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন, আর স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয় তীব্র ক্ষোভ।
স্থানীয়দের ধারণা, দিনের কোনো এক সময় শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ গোপন রাখা হয়। পরে রাতের অন্ধকার ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগে সেটি বাড়ির পাশেই ফেলে রাখা হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পুলিশ।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আলমীর হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি আরো জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এফপি/জেএস