ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই রিমান্ডের আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ শুদ্ধ আবদুল কাদির ভূঞা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, 'আসামি একজন অস্ত্রের দোকানের মালিক। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার দোকানের লাইসেন্স নবায়ন করা ছিল। পরে আর নবায়ন করেনি। নবায়ন না করা 'ইসলাম উদ্দিন আহমেদ এন্ড সন্স' দোকান থেকে এই অস্ত্রটি ক্রয় করা হয়। এমতবস্থায় অস্ত্রটি মো. মাজেদুল হক হেলালের কাছ থেকে আসামিদের হাতে কিভাবে গেল সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আসামির নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের নিমিত্তে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের প্রয়োজন।'
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিকালে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। গত ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের চকবাজার থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, শরিফ ওসমান হাদি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম 'ইনকিলাব মঞ্চ'-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারাত্মক জখম হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় প্রথমে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যা হাদির মৃত্যুর পর হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
হাদি হত্যার তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ডিবি পুলিশের দেওয়া সেই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি 'নারাজি' আবেদন করেন মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল জাবের। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন এবং অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
এফপি/অ