মাঠের লড়াইয়ে তারা এখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু মাঠের বাইরে বন্ধুত্বটা এখনো অটুট। ব্রাজিল ও ফ্রান্সের প্রীতি ম্যাচের আগে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ভাসলেন স্মৃতির ভেলায়। পিএসজির সাবেক সতীর্থ নেইমার জুনিয়রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হওয়ার পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, নেইমারহীন বিশ্বকাপ তাঁর কল্পনার বাইরে।
ব্রাজিল দল এখন কার—ভিনিসিউসের নাকি নেইমারের? এমন প্রশ্নের জবাবে হেসেই খুন এমবাপ্পে। তিনি বলেন, ‘নেইমার তো নেইমারই। সে একজন অসাধারণ খেলোয়াড়। বিশ্বকাপ মানেই তারকাদের আসর, আর আমার চোখে নেইমার সেই আসরের অন্যতম বড় তারকা। তাকে ছাড়া আমি বিশ্বকাপ ভাবতেই পারি না। আমি তাঁর সাথে খেলেছি, অনেক কিছু শিখেছি। সে বড় ব্যবধান গড়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড়।’
নেইমারের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এমবাপ্পের বিশ্বাস, বিশ্বকাপের মঞ্চে ঠিকই স্বরূপে ফিরবেন এই ব্রাজিলিয়ান ‘পোস্টার বয়’। তবে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আনচেলত্তির সিদ্ধান্তকেও সম্মান জানানোর কথা মনে করিয়ে দেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স মানেই ফুটবলের ধ্রুপদী লড়াই। মুখোমুখি লড়াইয়ে ফ্রান্সের পাল্লা কিছুটা ভারী হলেও ব্রাজিলকে খাটো করে দেখছেন না এমবাপ্পে। তাঁর মতে, ‘যে দলের জার্সিতে পাঁচটি তারকা (পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়) আছে, তাদের বিপক্ষে আপনি নিজেকে ফেবারিট বলতে পারেন না। ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল জাতি। আমাদের জন্য এটি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ।’
সাক্ষাৎকারের শেষে এমবাপ্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাকে কি কখনো কোপা লিবার্তোদোরেসের (লাতিন আমেরিকার ক্লাব ফুটবল টুর্নামেন্ট) মাঠে দেখা যাবে? উত্তরে মজা করে এমবাপ্পে বলেন, ‘কে জানে! ভবিষ্যতে কী হয় কেউ বলতে পারে না। আমি ভিনিসিউসকে (ভিনি জুনিয়র) বলব সে আমাকে ফ্ল্যামেঙ্গোর কোনো ম্যাচ দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানায় কি না!’
মাঠের লড়াইয়ে বন্ধুত্বের কোনো জায়গা নেই বললেও ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সাথে আড্ডা আর হাসি-ঠাট্টাই যে ফুটবলের সৌন্দর্য, সেটিও মনে করিয়ে দেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
এফপি/অ