ঈদের প্রথমদিন সকাল থেকে ঝড়ছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। বৃষ্টি উপেক্ষা করে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় ভীড় জমিয়েছেন পর্যটকরা। তবে আগত এসব পর্যটকদের বেশির ভাগই স্থানীয়সহ পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলার বলে জনা গেছে।
তারা সমুদ্রের নোনা জলে গা ভাসিয়ে মেতে উঠে বৃষ্টি বিলাসে। কেউ বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। কেউ বা আবার মেতেছেন বালু খেলায়। কেউ কেউ ঘোড়া, মোটরবাইক, ওয়াটারবাইক সহ বিভিন্ন বাহনে ঘুরে দেখছেন বিভিন্ন পর্যটন স্পট। মোটকথা ঈদের প্রথমদিন সৈকতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
পর্যটকদের ভীড়ের সঙ্গে বিক্রি বেড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে। ঈদের টানা ছুটির মধ্যে বুকিং রয়েছে ৮০ ভাগ হোটেল-মোটেল। আগামীকাল রবিবার থেকে পর্যটকদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটক মাহামুদা আক্তার ও হারুন অর রশিদ দম্পত্তি জানান, দু’জনেই ঢাকায় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে তারা বাড়িতে আসেন। শনিবার সকালে নামাজ শেষ করে পরিবার পরিজনদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে কুয়াকাটায় আসেন। এরপর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে সমুদ্রে সাঁতার কেটেন। তখন ছোট ছোট ঢেউ ছিল। দারুণ এক অনুভূতি। বেশ ভালোই লাগছে।
পর্যটক আহসান শুভ বলেন, বন্ধুরা মিলে বিকাল তিনটার দিকে কুয়াকাটায় এসে পৌঁছেছি। বৃষ্টির কারণে কিছুটা মন খারাপ ছিল। তবে সমুদ্রের ঢেউয়ের সাঁতার কাটা উপভোগ করেছি।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, বৃষ্টির কারণে সকালে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও বিকালের দিকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। সৈকত সংলগ্ন অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। আগামীকাল রবিবার থেকে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। আশা করছি হোটেল-মোটেল শতভাগ বুকিং হবে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সকালে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও দুপুর থেকে পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পটে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও সাদা পোশাকের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে তৎপর রয়েছে।
এফপি/অ