ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতার অংশ হিসেবে যশোর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে মসজিদ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
কর্মসূচিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোর জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মডেল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এ সময় মসজিদের নামাজের স্থান, বারান্দা, অজুখানা, সিঁড়ি, ছাদ, আশপাশের প্রাঙ্গণ ও পার্কিং এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পাশাপাশি মসজিদের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। আয়োজকরা জানান, ইসলামে পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই মসজিদকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখা শুধু কর্তৃপক্ষের নয়, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের উপপরিচালক বিল্লাল বিন কাসেম বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়, ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, “মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয় এটি ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতারও কেন্দ্র”। তাই মসজিদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মঈনুদ্দিন বলেন, ইসলামে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ এ কথা আমরা সবাই জানি’। তাই শুধু মসজিদ নয়, নিজের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশও পরিষ্কার রাখা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা হাতে ঝাড়ু ও পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে মসজিদের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার করেন। অনেকেই মসজিদের আঙিনায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও গাছপালার পরিচর্যা করেন। স্থানীয় মুসল্লিরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মসজিদ পরিষ্কার থাকলে নামাজ আদায়েও স্বস্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি এটি সমাজে পরিচ্ছন্নতার ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। মসজিদের খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনায় পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ সম্পর্কিত বিষয়গুলোও তুলে ধরা হবে।
এফপি/জেএস