এখন দেশের জ্বালানি মজুত পরিস্থিতি কি, তা নিয়েও গত কয়েকদিনে সরকারি ও স্বরাষ্ট্রভিত্তিক তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ-সংকটের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি মজুত ও সরবরাহের তথ্য জানিয়েছেন।
জ্বালানি তেলের মজুত কি পরিমাণ?
বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুত স্বল্পকালীন পর্যায়ে রয়েছে, তবে সরবরাহের কোনো তাৎক্ষণিক সংকট নেই বলেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে। দেশটিতে বিভিন্ন জ্বালানি তেলের মজুত নিম্নরূপ:
ডিজেল: প্রায় ১৪ দিন
অকটেন: প্রায় ২৮ দিন
পেট্রোল: প্রায় ১৫ দিন
ফার্নেস অয়েল: প্রায় ৯৩ দিন
জেট ফুয়েল: প্রায় ৫৫ দিন
এ তথ্য বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশটির জ্বালানি স্টক পর্যাপ্ত এবং সরবরাহ ও মূল্যহ্রাসের তেমন সম্ভাবনা নেই — অন্তত অল্পসময় পর্যন্ত।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বিপিসির কাছে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন তেলের মজুত আছে এবং সমুদ্র পথে ও খালাসের অপেক্ষায় আরও জ্বালানি রয়েছে, যা মোটামুটি ২০–২৫ দিনের সরবরাহ যোগাতে সক্ষম হবে।
জ্বালানি আমদানি ও ঝুঁকি
বাংলাদেশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বড় অংশে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, যা চট্টগ্রামের তেল শোধনাগারে পরিশোধিত হয়। এরপর তা দেশীয় জ্বালানি হিসেবে বিপিসির কাছে যাচ্ছে। যদিও বর্তমানে সরবরাহ স্বাভাবিক, স্রোত যদি হরমুজ প্রণালী বা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তবে আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হওয়া সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এ ছাড়াও দেশ পরিশোধিত জ্বালানি মূলত সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করে থাকে — যেগুলো সরাসরি হরমুজ পথের উপর নির্ভরশীল নয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।
এলএনজি ও এলপিজি মজুত
এলএনজি (তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস) দিয়ে দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ পূরণ হয়। বর্তমানে দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালে সীমিত মজুত থাকলেও বেশ কিছু কার্গো ইতোমধ্যেই দেশে এসেছে এবং বাকি চালানও পথে আছে, তাই স্বল্পমেয়াদে সরবরাহে বড় সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংকট যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে এলএনজি সরবরাহে চাপ দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশংকা করছেন।
এলপিজি (লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বাজারও মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত এলপিজি এসেছে এবং আরও চালান আসছে, তাই ঈদের আগ পর্যন্ত সংকটের আশঙ্কা নেই বলে অপারেটররা জানিয়েছেন।
দেশের জ্বালানি তেলের মজুত স্বল্পমেয়াদি (প্রায় ২–৪ সপ্তাহ) পর্যায়ে রয়েছে।
এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহ অক্ষুন্ন, তবে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
হরমুজ প্রণালী বা মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ রুটে সমস্যায় পড়লে আমদানি পরিকল্পনায় পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে।
সরকার ও বিপিসি জ্বালানি পরিস্থিতি মনিটর করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এফপি/রাজ