জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। নির্বাচনে কেউ যেন নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে নৌবাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ সজাগ থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন) রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে তিনি নোয়াখালীর হাতিয়া পরিদর্শন করেন। এ সময় হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে নৌবাহিনীর ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে মাঠে নৌ-কন্টিনজেন্ট ও কোস্ট গার্ড সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
নৌবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। নির্বাচন যেন নিরপেক্ষ, অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়—সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেউ যেন কোনো ধরনের নাশকতা করতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আলাউদ্দিন, হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম এবং হাতিয়ায় নিয়োজিত নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে সকালে তিনি হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়ায় আসেন। হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে অবতরণ করে গাড়িযোগে উপজেলা সদর ওচখালী পরিদর্শন করেন। দুপুরের কিছু আগে তিনি হেলিকপ্টারযোগে ভোলার উদ্দেশ্যে হাতিয়া ত্যাগ করেন।
হাতিয়া একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকা হওয়ায় এখানে পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি নৌবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে হাতিয়ায় নৌবাহিনী অবস্থান করছে। দ্বীপ সরকারি কলেজের একটি ছাত্রাবাসে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌবাহিনীর সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি হাতিয়ায় অতিরিক্ত নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রতিদিন নলচিরা ঘাট থেকে নিঝুমদ্বীপ পর্যন্ত তারা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। কখনো গাড়িতে, কখনো পায়ে হেঁটে তারা দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোমধ্যে নৌবাহিনীর সদস্যরা হাতিয়ায় অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার এবং ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
এফপি/জেএস