নির্বাচনী প্রচারণার শেষ লগ্নে শেরপুরের ঐতিহাসিক শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে এক বিশাল জনসভায় হুঙ্কার দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
১১ দলীয় জোটের এই জনসভায় তিনি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশ ও জাতির জন্য ‘আজাদি’ বা মুক্তির লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন। (১ ফেব্রুয়ারি) রোববার দুপুরে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ডা. শফিকুর রহমান ভোটারদের সাহসের সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে ডা. শফিকুর রহমান স্লোগান ধরেন, ‘আজাদি না গোলামি?’ উপস্থিত জনতা তখন সমস্বরে ‘আজাদি, আজাদি’ বলে প্রতিধ্বনি তোলে। এই স্লোগানের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং সাধারণ মানুষের হারানো অধিকার ও মুক্তি ফিরে পাওয়ার সংগ্রাম।
১২ তারিখের প্রথম ভোট হবে ইনশাআল্লাহ হকের পক্ষে। আপনারা পরিবার, প্রতিবেশী ও কর্মস্থলের সাথীদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ইনসাফের পক্ষে জোয়ার তুলুন।
নির্বাচনী জনসভায় শেরপুরের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন জামায়াত আমির। জোট ক্ষমতায় গেলে শেরপুর জেলায় নিম্নলিখিত স্থাপনাগুলো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজ, একটি আধুনিক ও বিশেষায়িত (স্পেশালাইজড) হাসপাতাল।
জোটের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের একাংশ ও স্বার্থান্বেষী মহল ভোটারদের মনে ভয়ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি সকলকে সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে জোটের পক্ষে রায় দেওয়ার এবং ইনসাফ কায়েম করার আহ্বান জানান।
বক্তব্য শেষে, ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত কর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোটের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।
শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান এর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক ড. ছামিউল হক ফারুকী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামী সাবেক সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল বাতেন, শেরপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ মোঃ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল, শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া ভিপি, জেলা এনসিপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন প্রমুখ।
জনসভায় শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এফপি/জেএস