রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এ পরিচালক পদে এখনো বহাল রয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক চিফ রেভিনিউ অফিসার (সিআরও) এবিএম এহসানুল মামুন (উপসচিব)। তার বিরুদ্ধে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব পালনকালে শত শত কোটি টাকা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সিআরও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৎকালীন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। ওই সময় সিটি করপোরেশনে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের নামে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক সূত্রের দাবি, বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হোল্ডিং ট্যাক্সের পে-অর্ডার সংগ্রহ করে তা প্রিমিয়ার ব্যাংক কোনাবাড়ী শাখায় খোলা একটি হিসাবে জমা দেওয়া হতো। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক হিসাবে সিটি করপোরেশনের নাম ব্যবহার করা হলেও এসব অর্থ পরে নগদায়ন ও আত্মসাৎ করা হয়। হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফের আশ্বাস দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বরখাস্ত হওয়ার পর আসাদুর রহমান কিরণ ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিলে এবিএম এহসানুল মামুন আরও প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। ওই সময় তাঁর পছন্দের বাইরে কোনো ঠিকাদার কাজ পেত না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রমতে, টেন্ডার বাণিজ্য ও কর ফাঁকির মাধ্যমে তিনি অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তাঁর নামে ও বেনামে ঢাকার ধানমন্ডিতে বাড়ি, নিকেতনে ফ্ল্যাট, বসুন্ধরায় একাধিক প্লটসহ বিভিন্ন স্থানে বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখিয়ে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন এবং দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দাবি করে বিভিন্ন মহলে আধিপত্য বিস্তার করছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এবিএম এহসানুল মামুনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এফপি/এমআই