লিভারপুলের মৌসুমের সবচেয়ে প্রভাবশালী পারফরম্যান্সগুলোর একটি দেখা গেল অ্যানফিল্ডে। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে নিউক্যাসলকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে আর্নে স্লটের দল। এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে টপকে পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে লিভারপুল।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আক্রমণে সৃজনশীলতার ঘাটতির সমালোচনা শুনতে হচ্ছিল লিভারপুলকে। তবে ২০২৬ সালের প্রথম লিগ জয়ে তার কোনো ছাপ ছিল না। বরং স্টাইল আর গতি- দুটোরই দারুণ সমন্বয় দেখা গেছে তাদের খেলায়। মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে বোর্নমাউথের বিপক্ষে দুই গোলের বেশি করার পর এবারই প্রথম অ্যানফিল্ডে তিনের বেশি গোল করল তারা।
এই জয়ের নায়ক হুগো একিতিকে। দুই গোল করে ম্যাচের গতিপথই ঘুরিয়ে দেন তিনি। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন ফ্লোরিয়ান ভির্টজ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই জুটি ইতোমধ্যে ছয়টি গোল তৈরি করেছে- প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে কার্যকর জুটিগুলোর একটি হয়ে উঠেছে তারা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য লিভারপুলের জন্য ধাক্কা দিয়েই শুরু হয়। দীর্ঘ এক বছর পর ওপেন প্লে থেকে গোল করে নিউক্যাসলকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। কিন্তু এরপর থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় স্বাগতিকরা। মিডফিল্ডে ব্রুনো গিমারায়েস ও জোয়েলিন্টনের অনুপস্থিতিতে নিউক্যাসল তাল মেলাতে পারেনি লিভারপুলের গতির সঙ্গে।
বিরতির ঠিক আগে ভির্টজের দারুণ ড্রিবলিং থেকে আসা পাস কাজে লাগিয়ে সমতা ফেরান একিতিকে। গোলের দুই মিনিটেরও কম সময় পর মিলোস কেরকেজের লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আবারও গোল করেন ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। মুহূর্তেই ম্যাচ ঘুরে যায় লিভারপুলের পক্ষে।
মধ্য সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির বিপক্ষে কঠিন ম্যাচ খেলে আসা নিউক্যাসল দ্বিতীয়ার্ধে ক্লান্ত দেখায়। সেই সুযোগে ভির্টজ ও মোহামেদ সালাহর সমন্বয়ে আসে লিভারপুলের তৃতীয় গোল, যা কার্যত ম্যাচের নিষ্পত্তি করে দেয়। শেষ দিকে আবেগঘন এক মুহূর্ত এনে দেন ইব্রাহিমা কোনাতে। বাবার মৃত্যুর পর তিন ম্যাচ পর শুরুর একাদশে ফিরে গোল করে দলকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
এই জয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত লিভারপুল উঠে এসেছে টপ ফাইভে এবং চতুর্থ স্থানে থাকা চেলসির থেকে এখন তারা মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে। এপ্রিলের পর এই প্রথম পিছিয়ে থেকে ম্যাচ জিতল তারা। অন্যদিকে অ্যাওয়ে ফর্মের দুর্বলতা কাটাতে না পারা নিউক্যাসল নেমে গেছে হতাশাজনক ১০ম স্থানে।
এফপি/অ