কুষ্টিয়ায় জলাতঙ্ক (র্যাবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স, এমনকি ফার্মেসিগুলোতেও টাকা দিয়ে ও এই রোগের ভ্যাকসিন মিলছে না। দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাকসিন না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনরা।
কুকুর, বিড়াল, বানর ও বেজির কামড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী এ হাসপাতালে এলেও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ী ফিরছেন। ভ্যাকসিন নিতে আসা তামিম ইসলাম বলেন, আমার মাকে ৭-৮ দিন আগে একটি বিড়াল কামড়েছে। এখন পর্যন্ত দুই ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এখন আর ভ্যাকসিন পাচ্ছি না। কিন্তু কুষ্টিয়ার আমিন ফার্মেসি এবং ইনসেপ্টা কোম্পানির ডিপোতেও খোঁজ করে কোথাও ভ্যাকসিন পাইনি। আগামী সপ্তাহে পাওয়া যেতে পারে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মিরপুর থেকে ভ্যাকসিন নিতে আসা আরেক সেবা প্রত্যাশী প্রদীপ হালদার বলেন, বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ভ্যাকসিন নিতে এসেছি। কিন্তু কুষ্টিয়ায় কোথাও ভ্যাকসিন নেই। বেশ কিছুদিন ধরে সংকট চলছে।
কুষ্টিয়া বড় জেলা হওয়া সত্ত্বেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না পাওয়া খুবই দুঃখজনক। যাদের কুকুর কামড়েছে, তাদের অবস্থা কতটা ভয়াবহ তা ভাবতেই ভয় লাগে। সময় মতো ভ্যাকসিন না পেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। এদিকে কুষ্টিয়া শহরের মেরিন ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী ক্যাভিয়াল নুর বাপ্পি জানান, আমাদের ফার্মেসিতে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫টি র্যাবিস ভ্যাকসিন বিক্রি হতো। আরও অনেক ফার্মেসি এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করত। ইনসেপ্টা ও পপুলার ফার্মাসিউটিক্যাল এই ভ্যাকসিন বাজারে সরবরাহ করে থাকে। ইনসেপ্টা মাঝে মধ্যে দিলেও পপুলার দীর্ঘদিন ধরেই সাপ্লাই বন্ধ রেখেছে। এই অনিয়মের কারণে গ্রাহকদের সীমাহীন হয়রানি হচ্ছে। জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো বিকল্প নেই।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজু আহমেদ বলেন, সরকারি পর্যায়ে বর্তমানে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাইরের বাজারেও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। কুকুর, বিড়াল, বানর ও বেজির কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দিতে হয়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বলেন, জলাতঙ্ক রোগের জন্য যে র্যাবিস ভ্যাকসিনটি আমরা ব্যবহার করি, তা প্রায় ছয় মাস ধরে সরকারি পর্যায়ে সরবরাহ নেই। গত এক মাস ধরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বেসরকারিভাবে যে দুটি কোম্পানি ভ্যাকসিন সরবরাহ করত, তারাও বর্তমানে দিতে পারছে না। ফলে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সংকটের সমাধান হবে।
এফপি/জেএস