চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হক চৌধুরী (৪৫) ছিনিয়ে নিয়েছেন জনতা। তবে পুলিশ বলছে, ‘গ্রেপ্তারের পর জটলা সৃষ্টি করে ওই আসামি পালিয়ে গেছেন।’
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসূল এলাকার বটতলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জিয়াউল হক চৌধুরী বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও খানখানাবাদ ইউনিয়ন আ. লীগের সহ-সভাপতিসহ আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী জিয়াউল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতার একটি মামলা ছিল। পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে জিয়াউল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের জন্য নজরদারিতে রাখছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলে বটতলী বাজারের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়ার সময় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির (উপ-পরিদর্শক) এসআই নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম তাঁকে ঘেরাও করে গ্রেপ্তার করে। হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় তাঁর অনুসারীরা সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন জিয়াউল হক চৌধুরীকে হাতকড়াসহ পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি জিয়াউল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর নিয়ে আসার পথে তাঁর অনুসারীরা পুলিশের কাছ থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নেয়। তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। যারা পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছে তাদেরও শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।’
পুলিশ হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া আ. লীগ নেতা জিয়াউল হক চৌধুরী।
এফপি/জেএস