‘স্বাস্থ্য সবার, সেবা সবার দোড় গোড়ায়, কমিউনিটি ক্লিনিক গ্রামের সেবা’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রত্যন্ত জনপদের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করণে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম চলমান থাকলেও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৫৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। দীর্ঘ ১ বছরের বেশি সময় ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ। সপ্তাহে কর্মদিবসের অধিকাংশ ক্লিনিক থাকছে বন্ধ। মূল ফটকে ঝুলছে তালা। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নেই কোন তদারকি।
দীর্ঘ এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবারাহ বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়ছে মাঠ পর্যায়ে। শত শত ক্লিনিকের দায়িত্বরত সিএইসসিপি কেন্দ্রে আসলেও ১ থেকে ২ ঘন্টা বসে থেকে ওষুধ না থাকায় ক্লিনিক বন্ধ করে চলে যাচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে পায়ে হেটে সাধারণ মানুষ ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে এসে ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। হচ্ছেন সেবা থেকে বঞ্চিত। স্থানীয়দের দাবি নিয়মিত ক্লিনিক খোলা ওষুধ সরবারাহ চালু রাখার।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপকূলীয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা ১৬টি ইউনিয়নসহ একটি পৌরসভার প্রায় ৪ লাখ মানুষের গ্রামীন জনপদের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করণে এ উপজেলায় ৫৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম চলছে ধীর গতিতে। ক্লিনিকের দায়িত্বরত (সিএইচসিপি) নিয়মিত ক্লিনিকে না এসে ব্যক্তিগত অন্য কাজে সময় পার করছেন।
বারইখালী ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া কমিউনিটি ক্লিনিক, জিউধরা ইউনিয়নের বরইতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে মূল ফটকে ঝুলছে তালা। এ রকম গত ৩ দিনে জিউধরা, বহরবুনিয়া, বারইখালী, পুটিখালী, বলইবুনিয়া, তেলিগাতি, পঞ্চকরণ ইউনিয়নের অধিকাংশ ক্লিনিকগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে। ৫৫টি ক্লিনিকের দায়িত্বরত ৫২ জন সিএইচসিপি রয়েছেন। এসব কেন্দ্রগুলোতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকি রয়েছে অভাব। এক বছর ধরে সাপ্লাই বন্ধ থাকায় কেন্দ্রগুলোতে রোগীদের ওষুধ দিতে না পারায় সিএইচসিপিদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে স্টোর কিপার কেএম মাসুদ সঠিক সময়ে ওষুধের চাহিদা দিতে না পারায় ওষুধ আসতে বিলম্ব হচ্ছে। ১২ জন সুপারভাইজার ও ৪ জন স্বাস্থ্য পরির্দশক থাকলেও মাসের পর মাস তারা পরিদর্শনে যাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ পদে ১৩ জন সুপারভাইজারই থাকলেও রয়েছে ১২ জন। তবে মাঠে টিকার কাজ করছেন তারা।
তেঁতুলবাড়িয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের (সিএইচসিপি) সুমন হাওলাদার, বরইতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের (সিএইচসিপি) আশিষ বিশ্বাস, বদনীভাঙ্গা (সিএইচসিপি) মো. জিয়াউর রহমান সহ একাদিকরা বলেন, গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত কমিউনিটি বেজ হেলথকেয়ার (সিবিএইচসি) প্রকল্পের ক্লিনিকের ওষুধ সাপ্লাই বন্ধ রয়েছে। যে কারণে প্রাথমিক চিকিৎসার ২২ প্রকারের ওষুধ রোগীদের দেওয়া যাচ্ছে না। ওষুধ দিতে না পারায় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আশা রোগীদের সাথে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় ইয়াকুব মুন্সী, সোনিয়া বেগম, জাহিদ হাওলাদারসহ একাধিক বাসিন্দারা বলেন, কোন কোন সপ্তাহে ৩ দিন ক্লিনিক খোলা হলেও তাও আবার ডাক্তার ২/৩ ঘন্টা থেকে বন্ধ করে চলে যায়। ডাক্তার বলছেন ওষুধ নেই, এ রকম আর কতদিন শুনবো ওষুধ নেই?
হাসপাতালের এমপিপি আই দিপক কুমার বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে সকল কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সাপ্লাই বন্ধ রয়েছে। যে কারণে কেন্দ্রগুলোতে রোগীরা ওষুধ পাচ্ছে না। ওষুধ বরাদ্দ হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।
হাসপাতালে স্টোর কিপার কেএম মাসুদ বলেন, ওষুধ চাহিদার কোন বিষয় নেই। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সিএইচসিবি প্রকল্পের ওষুধ সরবারাহ সারাদেশে বন্ধ রয়েছে।
এ সর্ম্পকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, তেঁতুলবাড়িয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সহ আরও একজন মৌখিক ছুটিতে রয়েছেন। যে কারণে ওই কেন্দ্র বন্ধ থাকতে পারে। কমিউনিটি ক্লিনিক বরাদ্দকৃত ওষুধ সল্প সময়ের মধ্যে পাওয়া যাবে।
এফপি/রাজ