দাদা মশিউর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত সিনিয়র মন্ত্রী, বাবা শফিকুল গাণি স্বপন ছিলেন প্রভাবশালী মন্ত্রী অথচ সেই রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি জেবেল রহমান গানি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে হারিয়েছেন জামানত। এমনকি বাতিল হয়ে যাওয়া ভোটের চেয়েও ১ হাজার ৭৩২ ভোট কম পেয়েছেন তিনি।
নীলফামারী-১ আসনে বাতিল হয়েছে ৬ হাজার ২০৯ ভোট। আর বাংলাদেশ ন্যাপের কেন্দ্রিয় সভাপতি জেবেল রহমান গাণি নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে গাভি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৭৭ ভোট। যা বাতিল হওয়া ভোটের চেয়েও কম।
এ আসনে ১ লাখ ৫০ হাজার ৮২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার। ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। তিনিও ১ লাখ ২০ হাজারের মত ভোট পেয়েছেন।
২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনেও জেবেল পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৯৯২ ভোট। জেবেল রহমানের দাদা ছিলেন মশিউর রহমান যাদু মিয়া। ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে বড় ছেলে শফিকুল গানি স্বপন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গঠিত জাতীয় পার্টি-তে যোগ দিয়ে মন্ত্রিসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
জেবেল রহমানের ফুফু মনসুরা মহিউদ্দিন-ও নীলফামারী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্থানীয় ব্যবসায়ী মামুন বলেন, একসময় পরিবারটির প্রভাব ও জনপ্রিয়তা শীর্ষে থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা ম্লান হয়েছে। তার বাবা-দাদার সঙ্গে মানুষের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকলেও জেবেল রহমানের সাথে মানুষের তেমন একটা সম্পর্ক নেই। মাসুম নামে এক ভোটার বলেন, ভোটের সময় ছাড়া তাকে পাওয়া যায়না। আর তাকে পাওয়া না গেলে মানুষ তাকে ভোট দিবে কেন। সংবাদ কর্মী আলমগীর বলেন, কেন্দ্রিয় সভাপতি হলেও তার দলের এখানে কোন সাংগঠনিক কর্মকান্ড নেই। শুধু ভোটের সময় হারার জন্যই তিনি এখানে আসেন।
শফিকুল গানি স্বপন মারা গেলে জেবেল রহমান গানি বাংলাদেশ ন্যাপ-এর চেয়ারম্যান হন। ২০১৮ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও দুবারই তিনি প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় জামানত হারান।সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
এফপি/জেএস