চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার পর বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য উদয় কুসুম বড়ুয়াকে বহিষ্কার করেছে দলটি। তবে শিক্ষার্থীরা শুধু বহিষ্কারেই সন্তুষ্ট নন; তারা তার বিচার ও গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন।
বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের নির্দেশনা অমান্য, সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে উদয় কুসুমকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে, উদয় কুসুম তার ফেসবুক আইডিতে শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে ঐতিহ্যবাহী জোবরা গ্রাম নামক ফেসবুক গ্রুপের পোস্ট শেয়ার করেন, এই শেয়ার তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং চবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। তারা স্লোগান দেন- “শিক্ষার্থীদের অপমানের বিচার চাই, উদয় কুসুমের গ্রেপ্তার চাই।”
স্বরুপ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ বলা মর্যাদাহানি। শুধু বহিষ্কার যথেষ্ট নয়, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।” আরেক শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, “বিএনপির বহিষ্কার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত মাত্র। আমরা চাই রাষ্ট্র তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করুক।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এদিকে সাধারণ মানুষও উদ্বিগ্ন, কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট এবং শেয়ারগুলো সমাজে অশান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। প্রশাসন ও রাজনীতিকদের জন্য এটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা না গেলে তা বৃহত্তর সামাজিক অস্থিরতায় পরিণত হতে পারে।
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে উদয় কুসুম বড়ুয়ার মোবাইলে বারবার ফোন করার পরও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তিনি দলের বহিষ্কারের বিষয়ে নিজের অভিমত জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, “দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আমি অনুগত। তবুও এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক, মানুষের জান-মাল নিরাপদ থাকুক।”
এফপি/এমআই