ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমাদ গালেব আল-রাহউই নিহত হয়েছেন। হামলায় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনাটি হুথি নেতৃত্বের ওপর প্রথম সরাসরি বড় ধরনের আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) ইয়েমেনের রাজধানী সানার একটি ভবনে বৈঠক চলাকালে এই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, গোপন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযানটি পরিচালিত হয়। তাদের দাবি, বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ হুথিদের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
হুথি সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের প্রধান মাহদি আল-মাশাত হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আল-রাহউই নিহতদের মধ্যে আছেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বা সেনাপ্রধান মারা গেছেন কিনা তা তিনি স্পষ্ট করেননি। সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-হাদাথ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিচারমন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রীসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।
হামলায় কয়েকজন মন্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। নিহত আল-রাহউই মাত্র এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী পদে নিযুক্ত হন। তবে তাকে মূলত প্রতীকী নেতা হিসেবে দেখা হতো। সরকারের প্রকৃত নেতৃত্ব ছিল তার ডেপুটি মুহাম্মদ আহমেদ মিফতাহর হাতে। হামলার পর মিফতাহকে কার্যনির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ বলেছেন, হামলাটি হুথিদের ওপর একটি "ভয়াবহ আঘাত" এবং এটি কেবল "শুরু"। অন্যদিকে মাহদি আল-মাশাত প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলের জন্য "অন্ধকার দিন" অপেক্ষা করছে।
২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের মাধ্যমে হুথিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে উৎখাত করে। এরপর থেকে দেশটি হুথি-নিয়ন্ত্রিত সানা ও সৌদি-সমর্থিত এডেনভিত্তিক সরকারের মধ্যে বিভক্ত। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হুথিরা নিয়মিতভাবে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে এবং লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর জবাবে ইসরায়েল ইয়েমেনে হুথি অবস্থানে বারবার বিমান হামলা চালিয়েছে।
তবে এ প্রথমবারের মতো হামলায় হুথিদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হলো।
এফপি/রাজ