Dhaka, Sunday | 8 November 2026
         
English Edition
   
Epaper | Sunday | 8 November 2026 | English
শিরোনাম:

সরকারি দায়িত্ব পালনে রাজনৈতিক পক্ষপাতের সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৩ পিএম আপডেট: ০৮.১১.২০২৬ ৯:৪৭ পিএম  (ভিজিটর : ২৮)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন থাকলে তার প্রতিফলন ব্যালট বাক্সে ঘটাতে হবে, সরকারি দাপ্তরিক কাজে নয় - এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন থাকাকে তিনি দোষের মনে করেন না। তবে সেই সমর্থনের প্রতিফলন সরকারি দায়িত্ব পালনে থাকা উচিত নয়।

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) মিলনায়তনে ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবনে কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়, তা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ, কর্মকর্তারা নিজেরাই এসব বিষয়ে ভালো জানেন। তবে জানা বিষয়গুলো কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সদিচ্ছা থাকা জরুরি।

নবীন কর্মকর্তাদের কাছে নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো বয়সের নাগরিক সরকারি অফিস-আদালতে সহযোগিতা চাইতে এসে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ‘গোল্ডেন রুল’ বা নৈতিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘ট্রিট আদার্স হাউ ইউ ওয়ান্ট টু বি ট্রিটেড।’ অর্থাৎ, অন্যের সঙ্গে তেমন আচরণ করুন, যেমন আচরণ আপনি নিজের জন্য প্রত্যাশা করেন। কেউ সহযোগিতা চাইতে এলে তাঁর সঙ্গে এমন আচরণ করতে হবে, যেমন আচরণ নিজের প্রয়োজনে অন্যের কাছ থেকে প্রত্যাশা করেন।

আইন ও বিধিবিধান মেনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন কর্মকর্তাকে অবশ্যই বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে দায়িত্ব পালনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও আধুনিক রাষ্ট্র ও প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো নাগরিক আবেদনপত্র নিয়ে এলে তাতে ভুল থাকলে তাঁকে সংশোধন করে আনতে বলা অন্যায় নয়। তবে ভুলটি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে কোথায় এবং কার কাছে গেলে তা সংশোধন করা যাবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া মানবিকতা ও আন্তরিকতার পরিচয়। জনগণ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শুধু আদেশ-নির্দেশ নয়, মানবিক আচরণও প্রত্যাশা করে।

কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনে হাজার হাজার পদ-পদবি রয়েছে। প্রতিটি পদই রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময় পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পদোন্নতি পেতে কেউ কেউ পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস করেন। দেশের যেকোনো স্থানে জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাই প্রকৃত পেশাদারত্বের পরিচয়। মনে রাখতে হবে, কোনো সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে ২৬টি ক্যাডার রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে কেউ প্রশাসন, কেউ পররাষ্ট্র, কেউ কৃষি, কেউ কর কিংবা শিক্ষা ও তথ্য ক্যাডারে যোগ দেবেন। কাজের ধরন ও কর্মস্থল ভিন্ন হলেও সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় তাঁরা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইউ আর দেয়ার টু সার্ভ দ্য পিপল।’ অর্থাৎ, জনগণের সেবা করার জন্যই তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সামনে নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরা হয়েছিল। জনগণ সেই ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে নির্বাচনী ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহার ও তাঁদের দেওয়া ম্যান্ডেট। এটি বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। প্রশাসনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবা আরও সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নবীন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ কর্মময় জীবনের সুখ, শান্তি, স্বাচ্ছন্দ্য ও সাফল্য কামনা করেন।

সন্ধ্যা ৬টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার মাসব্যাপী ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে মেধা ও কৃতিত্বের ভিত্তিতে নির্বাচিত শীর্ষ ১০ জনের হাতে সনদ তুলে দেন তিনি।

এফপি/মিব
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝