খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) আন্তবিভাগীয় জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
সভায় নগরীর বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনা, ড্রেনের পলি ও মাটি অপসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতি, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার অভিযান অব্যাহত রাখা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় লাগানো গাছের পরিচর্যায় প্রয়োজনীয় টিম গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, নগরীতে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে জানানো হয়, গতকাল মাত্র ৪৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি মাসে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা গেলে সংক্রমণ আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
এ লক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার অভিযান অব্যাহত রাখতে কেসিসির কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে গঠিত কমিটিকে দ্রুত সুপারিশ জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় লাগানো গাছের পরিচর্যার জন্য বিশেষ টিম গঠন এবং নগরীর বিদ্যমান উন্মুক্ত স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া গাছের পরিচর্যার জন্য অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়।
নগরীতে অবাধে বিচরণকারী গরু আটক করতে দুই শিফটে চারজন কর্মী নিয়ে টিম গঠন এবং বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকা প্রদান ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৃথক আরেকটি টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের শেষ মাসে ওয়ার্ডের আয়তন ও জনসংখ্যা বিবেচনায় অতিরিক্ত তিন থেকে সাতজন স্প্রেম্যান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি নগরীর প্রধান সড়কগুলো থেকে বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য পৃথক বর্জ্য সংগ্রহকারী নিয়োজিত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় প্রশাসক ড্রেনের পলি ও মাটি উত্তোলনের কাজ আগামী ১০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আসন্ন শীত মৌসুমে নগরীর সব ওয়ার্ডের অবশিষ্ট ড্রেনের পলি ও মাটি একযোগে অপসারণের লক্ষ্যে ড্রেনগুলোর তালিকা প্রস্তুত করতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন বিভাগ ও শাখার প্রধান এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এফপি/মিব