| শিরোনাম: |

সংগৃহীত ছবি
শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে খুলনা বিভাগের আট জেলায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এলিট ফোর্স স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পূজামণ্ডপে নিয়মিত টহল, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখার মাধ্যমে এ নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিচালনা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে খুলনা নগরীর ধর্মসভা মন্দিরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৬, খুলনার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ।
তিনি জানান, নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রথম স্তরে এসআরবির টহল দলগুলো সরেজমিনে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছে। পাশাপাশি শহর ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দ্বিতীয় স্তরে সাদা পোশাকে ফিল্ড এজেন্ট ও গোয়েন্দারা নজরদারি করছেন। তৃতীয় স্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পূজার কার্যক্রম শেষ হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, এসআরবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ১৩ অক্টোবর থেকে বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৬-এর দায়িত্বাধীন আটটি জেলায় মোট ৫ হাজার ৩৫৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার কার্যক্রম চলছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোকে প্রথমে জেলা এবং পরে উপজেলা ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলার জন্য একজন করে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কর্মকর্তা নিজ নিজ এলাকার টহল দল নিয়ে দায়িত্বাধীন পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করছেন। প্রতিদিন দুপুর ও সন্ধ্যায় দুটি সময়ে টহল দলগুলো পূজামণ্ডপে নজরদারি করছে। প্রতিটি টহল দলে আটজন সদস্য রয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রতিদিন এসআরবির ১২৮ জন সদস্য টহল কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে এসআরবি সদর দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সাইবার মনিটরিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়ে ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি রাখা হচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনো উসকানিমূলক তৎপরতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে তা আগেভাগে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
তিনি আরও জানান, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও পূজা উদযাপন কমিটি, সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত সহযোগিতায় নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এফপি/মিব