বরগুনার আমতলীতে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ছোট নীলগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও আহতদের সূত্রে জানা গেছে, ছোট নীলগঞ্জ এলাকার আবুল হোসেন গাজী ও রুস্তম হাওলাদারের মধ্যে প্রায় তিন একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই জমি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে দাবি করেছেন আবুল হোসেন গাজী।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রুস্তম হাওলাদার ওই জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে আবুল হোসেন গাজীর লোকজন বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে আবুল হোসেন গাজী (৫০), খোকন (৩৫), মহসীন গাজী (২৮), জলিল গাজী (৪৪), জাহিদুল (৩৫), আখিনুর (৩০), সোনিয়া (৩৫), সোহেল মোল্লা (৪০), ফয়সাল (২৫), মাহবুবুর রহমান (৩২), ইমরান (২৪), সাইদুল গাজী (৪০), আমিনুল ইসলাম (১৬), দুলাল মুসুল্লী (৫৫), লুৎফর (৫৫), রুস্তম হাওলাদার (৭৫) ও পাশা হাওলাদার (৪৫) রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে খোকন, সোহেল মোল্লা, জলিল গাজী, আখিনুর, রুস্তম হাওলাদার ও মাহবুবুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত আবুল হোসেন গাজী অভিযোগ করে বলেন, "আমার পৈতৃক জমিতে রুস্তম হাওলাদার লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক চাষাবাদ করতে আসেন। বাধা দিলে আমার পক্ষের ১৩ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। ওই জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জমিতে চাষাবাদের চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
অন্যদিকে রুস্তম হাওলাদারের ছেলে পাশা হাওলাদার বলেন, "জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে আবুল হোসেন গাজী ও তার লোকজন বাধা দেন। এ ঘটনায় আমাদের পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক বলেন, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, "বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
এফপি/র