পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রতিবন্ধী কার্ড করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অসহায় মানুষ। তাঁদের কাছ থেকে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দালালের বিরুদ্ধে। অনলাইন আবেদন, ফরম পূরণ, জমা দেওয়া ও কার্ড হাতে পাওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট দালালকে টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ফরম জমা দিতে না পেরে অভিযোগ করেন সোহাগদল ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের সাহানা নামের এক নারী।
সাহানার অভিযোগ, তাঁদের এলাকার হাফিজা আক্তার নামের এক নারী এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেন। প্রতিবন্ধী ছেলের কার্ড করার জন্য তিনি হাফিজা আক্তারকে অনলাইন আবেদনের জন্য প্রথমে ৫০০ টাকা দেন বলে জানান।
প্রায় দুই সপ্তাহ পর হাফিজা একটি ফরম এনে সেটি কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য আরও দুই হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ সাহানার। কার্ড পাওয়ার পর আরও দুই হাজার টাকা দিতে হবে বলেও তাঁকে জানানো হয়।
সাহানা জানান, তাঁর স্বামী করাতকলে সামান্য বেতনে কাজ করেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় তিনি নিজেই উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে এসে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানাকে বিষয়টি জানান।
সাহানার দাবি, একই এলাকার আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও ফরম জমা দেওয়ার জন্য ৫০০ টাকা ও পরে দুই হাজার টাকা করে নিয়েছেন হাফিজা আক্তার।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমের স্বামীর সঙ্গে দালাল হাফিজা আক্তারের সখ্য রয়েছে। টাকা দেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী কার্ড পেতে তেমন বেগ পেতে হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আজ সরেজমিনে কার্যালয়ে গিয়ে হাফিজা আক্তারকে পাওয়া যায়নি। তবে আকলিমা নামের আরও এক নারীকে কয়েকটি প্রতিবন্ধী কার্ডের ফরমের কাগজসহ দেখা যায়।
ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আকলিমা দ্রুত সরে যান। পরে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কার্যালয়ে বসে থাকা তাঁর স্বামী প্রথমে স্ত্রী অসুস্থ উল্লেখ করে কথা বলতে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে রেহানা বেগম তাঁর স্বামীকে কার্যালয় থেকে চলে যেতে বললে তিনি বেরিয়ে যান।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগম বলেন, ‘আমি কোনো দালালকে চিনি না। অফিসে এসে ফরম জমা দিলেই স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করি। দালালদের সঙ্গে আমার স্বামীর কোনো সখ্য নেই।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দীন বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। অফিসের কাজে একটু বাইরে আছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। প্রতিবন্ধী ফরম পূরণসহ কার্ড পেতে অফিসে কোনো টাকা লাগে না।’
প্রতিবন্ধী কার্ডের মতো সরকারি সেবা পেতে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ও কার্যালয়ে কথিত দালালদের ফরম নিয়ে অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দালাল চক্রের সঙ্গে কার্যালয়ের কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে পরিষ্কার করা হোক।
এফপি/র