নোয়াখালীর হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ঝাঁজালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর একে একে ২৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য ১২ শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তমরদ্দি জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা সবাই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সপ্তম শ্রেণির চার ছাত্রী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হলে জ্ঞান ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর অন্যান্য শ্রেণিকক্ষেও ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে ১৫ জনকে ভর্তি করা হয়। অসুস্থদের মধ্যে ফাতেমা বেগম (১২), নিপা আক্তার (১২), মেহেরাব উদ্দিন (১১), ফারহানা আক্তার (১২), জামেলা বেগম (১৪), সুরাইয়া আক্তার (১৩) ও পারভিন আক্তার (১৫)সহ আরও কয়েকজন রয়েছে। তাদের সবার বাড়ি তমরদ্দি জোড়খালী গ্রামে।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মানসুর উদ্দিন জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১০ জন শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছিল। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের তখনো জ্ঞান ফেরেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন জানান, প্রথমে যে শিক্ষার্থীরা অজ্ঞান হয়েছিল, তাদের বাড়িতে পাঠানোর পর জ্ঞান ফিরে আসে। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম নিলয় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অবস্থা সংকটাপন্ন কি না, তা ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর বলা যাবে। অনেকের এখনো পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। তাদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রোগীর অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ থাকার বিষয়টি জানা গেছে।
এদিকে খবর পেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল ও হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। এ সময় হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে স্বজন ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
তবে শ্রেণিকক্ষে কী ধরনের ঝাঁজালো গন্ধ ছড়িয়েছিল এবং এর উৎস কী তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এফপি/অ